বিশ শতকের শুরু। বিজ্ঞান ও চিকিৎসা প্রযুক্তি বেশ উন্নতি করেছে। তবুও এখনও উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। বিশেষ করে অপরিণত শিশুমৃত্যু যেনো একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন সময় চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে হাজির হলেন ভবঘুরে, অখ্যাত এক ডাক্তার। তার নাম ড. মার্টিন কাউনি।
ড. কাউনি অপরিণত শিশুদের বাঁচাতে তৈরি করলেন এক ধরনের ইনকিউবেটর। অন্য ডাক্তাররা তার চিকিৎসা পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেবেন না ভেবে আটলান্টিক সিটি ও কোনি আইল্যান্ডে অবস্থিত লুনা পার্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সব মেলা আর বিনোদন পার্কে নিজের যন্ত্রের ‘জাদু’ দেখাতে লাগলেন। নিরুপায় বাবা-মারা শেষ চেষ্টা হিসেবে তাদের অপরিণত শিশু নিয়ে আসতেন ড. কাউনির কাছে। মাত্র ২৫ সেন্ট-এর বিনিময়ে অল্প কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস ইনকিউবেটরে থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতো একেকটি শিশু।
এভাবে ১৯০৩ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ হাজার শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন ড. কাউনি। তাদের মধ্যে অধিকাংশই এখন সত্তরোর্ধ্ব। অনেকের বয়স আবার নব্বই ছাড়িয়েছে। এই বয়সে এসেও ড. মার্টিন কাউনিকে কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন তারা।
কারণ ওই পাগলাটে ডাক্তার না থাকলে হয় তো বৃদ্ধ হওয়ার জন্য তারা বেঁচেই থাকতেন না।






