এশিয়ার মাটিতে তার ব্যাট কথা বলে না। মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি করে সেই অপবাদকে পাথরচাপা দিয়েছেন। সেটার ধারাবাহিকতা থাকল চট্টগ্রামেও। ওয়ার্নারকে যেন থামানোই যাচ্ছিল না। যেন অন্যভাবে চেনানোর পণ ধরেছিলেন। নিজের সবচেয়ে ধীরগতির শতক করে সেই পণ পূর্ণও করেছেন। যে পথেই ছুঁয়েছেন দারুণ কিছু দেশীয় রেকর্ডের কীর্তি।
অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহটা বাড়িয়ে নিতে থাকা ওয়ার্নারকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন তার আইপিএল দল সতীর্থ মোস্তাফিজুর রহমান। ফিজ অজি বাঁহাতির উইকেট দিয়েই জন্মদিনের উদযাপন সেরেছেন। তারই আগে সেঞ্চুরির উদযাপন সেরেছেন ওয়ার্নারও। ২০৯ বলে, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মন্থর শতক। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ১৫৪ বলে করা একটি সেঞ্চুরি ছিল আগের স্লথতম।
সবমিলিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ওয়ার্নারের ২০তম ও এশিয়ার মাটিতে দ্বিতীয়, সেটিও টানা দুই। এই টানা দুই-ই মাইকেল ক্লার্ক, অ্যালান বোর্ডার, মাইক হাসি, ডেমিয়েন মার্টিন ও বব সিম্পসনদের পাশে বসিয়ে দিয়েছে তাকে। এই পাঁচ সাবেকই কেবল অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে এশিয়ার মাটিতে টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন। ওয়ার্নারকে নিয়ে সেটি ছয়ে দাঁড়াল।
শতকটি দিয়ে আরও কিছু কিংবদন্তি ও সাবেককে পেছনে ফেলেছেন ওয়ার্নার। ১৯টি করে টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক মার্ক টেলর, গর্ডন গ্রিনিজ, ক্লাইভ লয়েড, লেন হাটন, মাইক হাসিরা এখন ওয়ার্নারের পেছনে। ৬৬তম টেস্টে এসে ২০তম শতকটি পেলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটকে বিবেচনায় ধরলে ওয়ার্নার অবশ্য অনেক পেছনেই থাকবেন। সর্বোচ্চ ৫১টি সেঞ্চুরি নিয়ে শিখরে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। অজিদের হয়ে সর্বোচ্চর দিকে দিয়েও ওয়ার্নারের ওপরে আছেন বেশকজন। রিকি পন্টিং (৪১), স্টিভ ওয়াহ (৩২), ম্যাথু হেইডেন (৩০), স্যার ডন ব্র্যাডম্যান (২৯), মাইকেল ক্লার্ক (২৮), অ্যালান বোর্ডার (২৭), গ্রেগ চ্যাপেল (২৪), জাস্টিন ল্যাঙ্গার (২৩), নিল হার্ভে (২১) ও ডেভিড বুন (২১)। তবে ৩০ বর্ষী ওয়ার্নারের সুযোগ থাকছে শীর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।







