ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয় ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এক যুবককে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই যুবক কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন। রোববার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম মোতালেব হোসেন ওরফে বাপ্পী (২৬)। তিনি শহরের বড়বাজার এলাকার আবদুল হালিমের ছেলে। মোতালেব বড়বাজারে ডাউলের ব্যবসা করেন। এনামুল হক বিজয়ের বাবা-মা আবদুল হালিমের বড়বাজারের চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।
এসব ঘটনায় উভয় পরিবারই কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। তবে গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
হাসপাতালে আহত মোতালেব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় চার বছর ধরে এনামুলের বাবা জামিল হোসেন ওরফে লিচু তাঁর পরিবার নিয়ে শহরের বড়বাজার এলাকায় চারতলা বাড়ির দ্বিতীয়তলায় ভাড়া থাকেন। বাড়ির নিচ তলায় একটি গোডাউন রয়েছে। সেখানে মোতালেব তাঁর দোকানের মালামাল রাখেন। একই সঙ্গে ওই গোডাউনে এনামুলদের তিনটি মোটরসাইকেল থাকে। গত রোববার সকালে মোতালেব গোডাউন খুলতে গেলে নিজেদের তালার পরিবর্তে অন্য তালা দেখতে পান। এসময় এনামুলের পরিবারের কাউকে খুঁজে পাননি। একপর্যায়ে তালা ভেঙে মালামাল বের করেন। তালা ভাঙা নিয়ে এনামুলের বাবার সঙ্গে মোতালেবের বাকবিতণ্ডা হয়।
মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনামুল কুষ্টিয়ায় আসেন। এনামুল, তাঁর ভাই সজিবসহ ১০/১২জন যুবক শহরের বড় বাজারে দোকান থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে বাড়ির দিকে যায়। রাত ৯টার দিকে বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিজয় তাঁর হাতে থাকা বেজ ব্যাট দিয়ে প্রথম আঘাত করে। এসময় অন্যরাও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। পরে তিনি চিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, পায়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এছাড়া শরীরে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর এনামুলসহ তাঁর পরিবার ঢাকায় চলে গেছেন। মারধরের ব্যাপারে জানতে এনামুলের বাবা ও ভাইয়ের মোবাইলে রিং দিলেও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এনামুল হক বিজয় মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে এনামুলের বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এবং রাত এগারটার দিকে মোতালেবের বাবা তাঁর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ দিয়েছেন। থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলামকে দুটো অভিযোগই খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।







