১৬ ডিসেম্বর নির্মাণ ক্যারিয়ারে ১০ বছরে পা রাখলেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। গত একদশকে তিনি তিন শতাধিক নাটক নির্মাণ করেছেন। নানা ধরনের গল্প বলে নাট্য নির্মাতা হিসেবে আলাদা জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বান্নাহ। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি সেন্টিমেন্টাল’ গল্পে বান্নাহর যেন জুড়ি নেই! সর্বশেষ ‘মায়ের ডাক’র মাধ্যমে তিনি গেল ঈদে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন।
১০ বছরের এই পথচলাকে এককথায় ‘ওয়ান্ডারফুল’ বললেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক কষ্ট করেছি। এখন অনেক প্রযোজকের সঙ্গে এখন কাজ হয় কিন্তু প্রথমে তারা আমাকে সুযোগ দেন নাই। একজন নতুন পরিচালককে অনেক কিছু প্রমাণ দিয়ে কাজ পেতে হয়। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা এখন ভরসা রেখে কাজ করছেন।
বান্নাহ বলেন, এক বছর প্রযোজক খুঁজে না পেয়ে আমার বাবাই আমার প্রথম ‘ফ্ল্যাশ ব্যাক’ নাটক প্রযোজনা করেন। তিনি আমার স্ট্রাগলটা কাছ থেকে দেখেছিলেন। বিভিন্ন মিটিং শেষে এসে আমাকে হতাশায় থাকতে দেখতেন। তখন বাবা আমাকে বলেছিলেন, তোমাকে আমি প্রযোজনা করে শুরু করিয়ে দিলাম। গর্বে বলি, আমার বাবা তার সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সহযোগিতা করেছেন। এখন আমার বাবা গর্বিত বাবাদের একজন। আমাকে নিয়ে তিনি হ্যাপী।
আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বান্নাহ বলেন, প্রয়াত মোস্তফা কামাল সৈয়দ স্যার আমার গল্প পছন্দ করেছিলেন। তখন বিজয় দিবসে অনেক নাটকের মধ্যে আমার কাজটি নির্বাচিত হয়েছিল। তিনি আমাকে প্রথম আশা দেখিয়েছিলেন কিছু করতে পারবো। আমার প্রথম নাটকে আলী যাকের স্যার, আবুল হায়াত স্যার ছিলেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ যে আমাকে বিশ্বাস করে কাজ করেছিলেন।
সবকিছু মিলিয়ে গত ১০ বছরে বিভিন্ন চড়াই উৎরাইয়ের পাশাপাশি সুখের স্মৃতি বয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ।
তিনি বলেন, যখন কাজ শুরু করেছিলাম তখন ইউটিউবের প্রচলন ছিল না। এই মাধ্যম এসে কাজগুলো প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে। আমার কাজের বিশাল সংখ্যক দর্শক তৈরি হয়েছে এই মাধ্যমের কল্যাণে। এতে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছে। যদি ভুল না করে থাকি আমিই প্রথমে শুধুমাত্র ইউটিউবের জন্য নাটক বানিয়েছি। এখন পুরো মার্কেট ওইদিকেই যাচ্ছে।
বান্নাহ বলেন, এখন যেভাবে নাটক করছি আমার প্ল্যান ছিল আরও দুইবছর আগে কাজ কমানো উচিত। কিন্তু কোভিড এসে বিভিন্ন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। ১০ বছর পর নিজেকে বড়পর্দার নির্মাতা হিসেবে দেখতে চাই। যেভাবে নাটকে নিয়মিত কাজ করেছি এভাবে নিয়মিত সিনেমা বানাতে চাই। তবে আমি অনেক ভাগ্যবান। নিজেকে একজন সুখী নির্মাতা মনে করি।
আরও বলেন, অসাধারণ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ হয়েছে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তাহসান ভাইকে পাওয়া কঠিন ছিল। তিনি আমার তৃতীয় নাটক করেছিলেন। খুব হাতেগোনা কাজ করতেন। আমি স্ক্রিপ্ট এবং গল্প দিয়ে তাকে মুগ্ধ করে নিয়েছিলাম।
নতুন বছরের পরিকল্পনা খোলাসা না করলেও বান্নাহ ইঙ্গিত দিলেন বিশেষ কিছু করতে যাচ্ছেন। বললেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে একটা বড় সারপ্রাইজ দিতে পারি। আমার কাজ যারা পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি সবচেয়ে স্পেশাল হতে পারে। বাংলাদেশের খুবই নামকরা এক ব্যক্তির উদ্যোগে কিছু একটা করতে পারি। যেহেতু ঘটেনি তাই বলতে পারছি না। দেশের নামকরা ওই মানুষটিকে নাম উল্লেখ না করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে জানাচ্ছি যে, তিনি এতো কাইন্ড এনাফ একজন মানুষ তার সঙ্গে কথা না বললে বুঝতাম না। উনি জানিয়েছেন, যেটা করতে চাই এতে তিনি আমার সাথে আছেন। আমি এতে অনুপ্রাণিত।








