গুরুতর আকার ধারণ করা মস্তিস্কের ক্যানসারের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন। রোগ ধরা পড়ার এক বছর পর চিকিৎসায় ক্ষ্যান্ত দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তিনি।
সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ম্যাককেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জন তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।’ ‘গিলোব্লাস্টোমা’র (সবচেয়ে মারাত্মক প্রকৃতির ব্রেইন ক্যানসার) চূড়ান্ত অবস্থা আর নিজের বয়স (৮১ বছর) বিবেচনা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
‘নিজের চিরায়ত ইচ্ছাশক্তির বলে তিনি এবার ঠিক করেছেন এর চিকিৎসা বন্ধ করে দেবেন,’ বিবৃতিতে বলেছে ম্যাককেইনের পরিবার।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে লড়ে যুদ্ধবন্দী হিসেবে দীর্ঘ ৬ বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন জন ম্যাককেইন। ওই সময় বহু নির্যাতন সহ্য করেও নিজ দেশের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। উদ্ধার হয়ে দেশে ফেরত আসার পর রিপাবলিকান হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাককেইন। এর মাঝে ২০০০ সালে রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হেরে যান তিনি। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে হেরে যান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বারাক ওবামার কাছে।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে জন ম্যাককেইন প্রথম জানান তার গিলোব্লাস্টোমা ধরা পড়ার কথা। চলতি বছরে অসুস্থতার কারণে ক্যাপিটলে উপস্থিতও থাকতে পারেননি। অন্ত্রে সংক্রমণের চিকিৎসায় গত এপ্রিলে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছিল।
স্পষ্টভাষী এবং পররাষ্ট্রনীতিতে রিপাবলিকান রক্ষণশীল মনোভাবের জন্য সুপরিচিত সিনেটর ম্যাককেইন। তার গরম মেজাজেরও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে তারপরও বেসামরিক ও দ্বিপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভিন্ন বিষয় বিচার করতে পারার জন্য বিপুল সংখ্যক ডেমোক্র্যাট ভক্ত রয়েছে তার।








