পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা–তে একটি নতুন বসানো গভীর নলকূপ থেকে গ্যাস নির্গমনের ঘটনা ঘটেছে। নির্গত গ্যাসে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা সেই আগুনে চা তৈরি করেও খেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার (৯ মে) উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের হাওলাদার বাড়ির রিমান হাওলাদার, মিনহাজ হাওলাদার ও শাকিল হাওলাদার যৌথভাবে বাড়ির আঙিনায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। প্রায় ৯৬০ ফুট গভীর পর্যন্ত বোরিং করে শুক্রবার পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে পাইপের ভেতর থেকে হঠাৎ বুদবুদের শব্দ শুনতে পান বাড়ির সদস্যরা। পরে কৌতূহলবশত পাইপের পাশে পেঁপে গাছের নাল পুঁতে আগুন ধরালে সেখানে আগুনের শিখা জ্বলে ওঠে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমন ও আগুন জ্বলার ঘটনা চলতে থাকে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মূল পাইপের মুখ বন্ধ থাকলেও ভেতরে অনবরত বুদবুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল চৌকিদার বলেন, জীবনে এমন ঘটনা আগে দেখেননি। টিউবওয়েল বসানোর পর গ্যাস বের হতে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। এমনকি সেই আগুনে চা তৈরি করেও খেয়েছেন বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের ধারণা, ৯০০ থেকে ১ হাজার ফুট গভীরে বোরিং করার সময় ভূগর্ভে জমে থাকা মিথেন গ্যাস ওপরে উঠে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ জৈব পদার্থ পচে তৈরি হওয়া গ্যাসের ছোট পকেট থেকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি স্থায়ী কোনো গ্যাসক্ষেত্র কি না, তা নিশ্চিত হতে ভূ-তাত্ত্বিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে খায়রুল হাসান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। কেন নলকূপ থেকে গ্যাস নির্গত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








