সংবাদ সম্মেলনে কোহলি নিজেই প্রসঙ্গটা উসকে দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে ঢুকতে যেয়ে চার মাস আগের একটা মুখ সামনে চলে আসছে। যে মুখে হতাশা ছিল। ছিল আক্ষেপ। মুখটা মুশফিকুর রহিমের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতে অধিনায়ক বলেছিলেন, সাদা পোশাকে যদি আরেকটু বেশি খেলতে পারতাম! আরেকটি ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে মুশফিকরা তাদের প্রতিপক্ষের মুখেই শুনলেন নিজেদের এই আক্ষেপের কথা।
সিরিজের একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে নামার আগেরদিন বুধবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অনেকটা সহমর্মিতার মত করেই কোহলি বলে গেলেন, ‘এত কম টেস্ট খেলে কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না।’
শুধু মুশফিক নয়, সাকিব আল হাসানের মুখেও বারবার এই আক্ষেপ ঝরেছে। এক সময় আশরাফুলও একই কথা বলতেন। প্রায় দেড় যুগের পথ চলায় মেটেনি সেই আক্ষেপ।
বাংলাদেশ টেস্ট খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ২০০০ সালে। মাঝে ১৬টা বছর চলে গেছে। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শরীরে সাদা পোশাক উঠেছে ৪৪ বার। বিদেশের মাটিতে জয় মাত্র তিনটিতে। দুটি আবার দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেটা ২০০৯ সালের কথা। আরেকটি জয় জিম্বাবুয়ের মাটিতে।
‘বাংলাদেশের স্কিল আছে। কিন্তু একটি দল হিসেবে আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করতে তারা খুব বেশি টেস্ট খেলতে পারেনি।’ কম খেলার এই প্রসঙ্গ টেনেই কথাটা বলেন কোহলি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও বলতে ভুললেন না টিম ইন্ডিয়ার নয়া অধিনায়ক, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে তারা খুব ভালো দল। ওরা সমন্বয়টা জানে। যদি আপনি খুব বেশি টেস্ট না খেলেন, তবে ভাবটা বুঝতে পারবেন না।’
বাংলাদেশ কতটা কম টেস্ট খেলে তা আরেকটি পরিসংখ্যান থেকে বুঝতে সুবিধা হবে। কোহলি প্রথম টেস্ট খেলেন ২০১১ সালে। ৬ বছরে তিনি মোট টেস্ট খেলেছেন ৫৩টি। মুশফিকের অভিষেক হয় ২০০৫ সালে। ১২ বছরে তিনি খেলেছেন ৫১টি!
কোহলির মত কথা অবশ্য অন্য ভারতীয়রাও বলছেন। সাবেক ভারতীয় উইকেটরক্ষক সাবা করিম হিন্দুস্থান টাইমসকে বলেন, ‘১০ দলের ভেতর বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বরে হলেও প্রতিভার অভাব নেই। বেশি বেশি ম্যাচ না পাওয়ার কারণেই এই অবস্থা।’







