শ্রীলঙ্কা দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে যাচ্ছেতাই অবস্থা! অন্যদিকে ভারত উড়ছে ধারাবাহিকভাবে। ঘরের মাঠে কোহলিদের সাফল্য নিয়ে তো কোন প্রশ্নই নেই। সেই ভারতের মাটিতে এসেই কিনা দেখা মিলছে অন্য লঙ্কার। পেসে স্বাগতিকদের কাঁপিয়ে দেয়ার পথে চান্দিমালের দলের সামনে অবশ্য মূহমূহ বাধা সৃষ্টি করছে বৃষ্টি। দুদিনে মাঠে বল গড়িয়েছে কেবল ৩২.৫ ওভার। তাতে স্পষ্টত এগিয়ে সফরকারীরাই।
কলকাতায় প্রথম দিনে বৃষ্টিতে খেলা শুরু হতে হতে দুই সেশন পেরিয়ে যায়। তৃতীয় সেশনে যা একটু বল মাঠে গড়ায়, সেটি ১১.৫ ওভারে থামে। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই বন্ধ হয় যায় খেলা। দ্বিতীয় দিনেও বৃষ্টির বাগড়া থাকল, খেলা হতে পারল মাত্র ২০ ওভার। দুপুর তিনটার দিকে দিনের খেলার ইতি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
ইডেন গার্ডেনসে শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম দিনের চমকের নাম ছিল সুরঙ্গা লাকমাল। ভারতের টপঅর্ডার নাড়িয়ে দেয়া এক স্পেল শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল, ৬-৬-০-৩! শুক্রবার আরও ৫ ওভার বল করেছেন। উইকেট পাননি। আরও ৩টি মেডেন আদায় করার পথে দিয়েছেন ৫ রান।
তবে এদিন আরেক মিডিয়াম পেসার দাসুন শানাকা ২ উইকেট নিয়ে সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন। শূন্য রানে অপরাজিত হিসেবে দিন শুরু করা আজিঙ্কা রাহানেকে ৪ রানের মাথায় ডিকেভেল্লার গ্লাভসে জমা করিয়েছেন। পরে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকেও (৪) ফেরান করুনারত্নের ক্যাচ বানিয়ে।
যদিও ৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করা পূজারাকে ফেরাতে পারেনি লঙ্কানরা। ৪৭ রানের ইনিংসে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে টিকে আছেন, সঙ্গী হৃদ্ধিমান শাহার সংগ্রহ ৬ রান।
তাতে ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শুরু করা ভারত দিন শেষ করেছে ৫ উইকেটে ৭৪ রানে।
বৃহস্পতিবার সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃষ্টি বিভ্রাটের পর তিন উইকেট ঝুলিতে পোরেন লাকমাল। ৬ ওভারে কোন রান খরচ করেননি। এই লঙ্কান পেসার দ্বিতীয় দিনে আরও ১০ বলে রান দেননি। তাতে দারুণ একটি রেকর্ডে পা রেখেছেন।
নিজের ৪৭তম বলে গিয়ে একটি চার খেয়েছেন লাকমাল। রান দেওয়ার আগেই ৪৬ বল করে ১৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছেন। ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ ৪০ বল পর্যন্ত রান না দেয়ার রেকর্ড ছিল, যা জেরমে টেলর ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গড়েছিলেন। সেটাই টপকে গেলেন শ্রীলঙ্কান পেসার।
সে পথে প্রথম দিনে ফিরিয়েছিলেন উদ্বোধন করতে আসা শেখর ধাওয়ান ও লোকেশ রাহুলকে। পরে ১১ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে না পারা বিরাট কোহলিকে এলবিডব্লিউ করেন।








