প্রথম ইনিংসে চারশতাধিক রান তোলার পর বল হাতে ছন্দ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় দিনে মিরাজ-তাসকিনরা দারুণ পারফর্ম করে টাইগারদের ম্যাচে ফিরিয়েছেন। মিরাজের ৫ উইকেট এবং তাইজুল তাসকিনের ২টি করে উইকেটে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছে টিম টাইগার্স। পরে বাংলাদেশ ব্যাটে নামার ১.৫ ওভার পর আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ করেন আম্পায়াররা।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুললেও দ্বিতীয় দিন ব্যাটে নেমে ৪১৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে নেমে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন তৃতীয় সেশনে ৩৮৯ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল। ২৭ রানে লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ৩৪ রানে এগিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শুরু করবেন মাহমুদুল হাসান জয় (২) এবং সাদমান ইসলাম (০)।
রোববার তৃতীয় দিন মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ২৫ ওভার ব্যাট করে ৭২ রান যোগ করতেই পাকিস্তান ৪ ব্যাটারকে হারায়। দিনের শুরু দিকে সেঞ্চুরি তুলে নেন আজান আওয়াইস। নাহিদ রানার বলে পয়েন্ট অঞ্চলে বল ঠেলে এক রান নিয়েই হেলমেট খুলে মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুড়ে উদযাপন করেন। টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি পাওয়ার আনন্দ তাকে চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল। ১৪ চারে ১৫৩ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন।
ইনিংসের শুরুর দিকে নাহিদ রানার একটি বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পেয়ে শারীরিকভাবে অস্বস্তি বোধ করছিলেন আজান। মাথা ঘুরতে থাকার কারণে দুইবার ফিজিও মাঠে ঢুকে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কনকাশনের শঙ্কায় পড়লেও ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতা দেখান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৮.৯ গড়ে রান করা ২১ বর্ষী এই তরুণ অভিষেকেই নিজের জাত চেনাতে মরিয়া ছিলেন। পাকিস্তানের ১৫তম ব্যাটার হিসেবে তিনি অভিষেক টেস্টে দেখা পান সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর আজান বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। তাসকিন আহমেদের অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট লেন্থ ডেলিভারিতে কাট শট খেলেছিলেন। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্লিপে। দ্রুত গতিতে আসা বল নাজমুল হোসেন শান্ত দারুণভাবে লুপে নেন। ১৬৫ বলে ১৪ চারে ১০৩ রানে ফেরেন। তাতে ভেঙে যায় আব্দুল্লাহ ফজলের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তার ১০৪ রানের জুটি। এরপর ১০২ বল খেলে আব্দুল্লাহ ফজল অভিষেক টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন।
তবে দ্রুতই ফিরে যান শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল। ৫৯ ওভারের শেষ বলে দলীয় ২২৬ রানে তাসকিনের শিকার হন শান। টাইগার পেসারের বলে পয়েন্টে থাকা সাদমান ইসলাম সামনে ঝাপিয়ে দুরন্ত ক্যাচ নিলে ৯ রানে ফেরেন মাসুদ। পরের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন রানের খানা না খোলা শাকিল। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের গতিপথ ফিরে পায় বাংলাদেশ।
৬৩.৪ ওভারে ২৩০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। মিরাজের বলে ফজল মিড অনে তাইজুলের ক্যাচে পরিণত হন। ১২০ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৬০ রান করেন। তাতে মিরপুর টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থান ফিরে পায় টাইগাররা। ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
চাপ সামলে ওঠার আগেই লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দেন সালমান। তাসকিনের ডেলিভারিটি নো হওয়াতে রানের খাতা খোলার আগেই জীবন পান তিনি। পরে রিজওয়ানসহ আরও ২১ রান যোগ করে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেন। দ্বিতীয় সেশনের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়ে দেন দুজনে। ১১৯ রান যোগ করেন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে।
দলীয় ৩৪৯ রানে রিজওয়ান আউট হলে জুটি ভাঙে। মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে তাইজুল ইসলামের শিকার হন রিজওয়ান। ৭৯ বলে ৫৯ রান করেন। এরপরই বৃষ্টি নামে। তাতে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে খেলা।
সোয়া চারটায় পুনরায় খেলা গড়ায় মাঠে। এরপর ৫৩ মিনিটে চার উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দলীয় ৩৫৩ রানে সালমান আঘাকে ফেরান নাহিদ রানা। ৯৫ বলে ৫৮ রান করেন সালমান। ৩৭২ রানে নোমান মিরাজের বলে শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। ২ রান করেন এই টেলেন্ডার। দুই রান যোগ করতেই মিরাজের পঞ্চম শিকার হন শাহিন আফ্রিদি। ১৩ রান করেন। পরে ৩৮৬ রানে হাসান আলিকে বোল্ড করে সফরকারীদের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল।
২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে ব্যাটে নেমে অলআউট হওয়ার আগে ২০৭ রান যোগ করে পাকিস্তান। এর আগে দ্বিতীয় দিন ৬ চারে ৭২ বলে ৪৫ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল-হক।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে মিরাজ ৫টি এবং তাসকিন ও তাইজুল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া নাহিদ রানা নেন ১ উইকেট।
জবাবে নেমে ১১ বল খেলে ৭ রান যোগ করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। বৃষ্টির কারণে খেলা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল। তবে আলোকস্বল্পতায় সাড়ে পাঁচটায় বন্ধ করতে হয় তৃতীয় দিনের লড়াই।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৩০ বলে ১০১ রান করেন টাইগার অধিনায়ক। ২০০ বলে ৯১ রান করেন মুমিনুল হক। ১৭৯ বলে ৭১ রান করেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া লিটন দাস ৩৩, তাসকিন আহমেদ ২৮, তাইজুল ইসলাম ১৭ এবং সাদমান ইসলাম ১৩ রান করেন।
পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি ও নোমান আলি একটি করে উইকেট নেন।








