নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনে সরকারের দনমপীড়নে বেপরোয়া চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে আরো উৎসাহিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন দমাতে সরকার শাসনযন্ত্রের যে দমন ক্ষমতা কাজে লাগালেন তাতে কিছু বেপরোয়া চালকরাই অনুপ্রাণিত হলেন, উৎসাহিত হলেন। আর সেই উৎসাহের বশবর্তী হয়ে সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ী চলা অব্যাহতই আছে এবং মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামাজিক গণমাধ্যমে উস্কানী ও সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন থানায় ৫১টি মামলায় প্রায় শ‘খানেক ছাত্রছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এসব মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে।
‘এই কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সমাজের অগ্রগণ্য মানুষরাও বিস্মিত হয়েছে তারা যা পারেনি শিশু-কিশোররা চোখে আঙুল দিয়ে সেটা করে দেখিয়েছে।’
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন; শিশু-কিশোররা পথ দেখিয়েছে। কিন্তু এখন আন্দোলনরত শিশু-কিশোররা যে পথ দেখছে তাতে তারা প্রতিদিনই শিহরিত হয়ে উঠছে। তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, রিমান্ডের হাড়-হীম করা অকথ্য নির্যাতন করা হচ্ছে, এরপর পাঠানো হচ্ছে জেলখানায়।
‘মুখে যাই বলুন, সরকার প্রধান শিশু-কিশোরদের সাথে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছেন। অভিভাবকরা বাচ্চাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত, ভীত, শিহরিত। এখন শুধু ছাত্ররাই নয়, ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না আটক ও জুলুমের করালগ্রাস থেকে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ একের পর এক ছাত্রী আটকের লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সামনে থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তাসনিম ইমিকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে কয়েক ঘণ্টা নির্মম প্রহর গুনতে হয়। ইমির আটকের ১২ ঘণ্টা পর ইডেন কলেজের কোটা আন্দোলনের আরেক নেত্রী লুৎফুন্নাহার লুমামে সিরাজগঞ্জে বেলকুচি থানার একটি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
‘এই জালিম সরকারের হাত থেকে বাঁচতে আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রী ও সমর্থনকারী নারীরাও রেহাই পাচ্ছে না। এই সকল ঘটনায় জাতির সম্ভ্রম ধুলায় লুটিয়ে গেলেও সরকারের অগ্নিমূর্তির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
এ সময় তিনি বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অন্যায় সাজা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনে সরকারের দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও রিমান্ড প্রত্যাহারের দাবি করেন।








