দীর্ঘ ১১ বছর পর রোববার (আগামীকাল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অন্য সকল রাজনৈতিক দলেও চলছে হিসেব নিকেশ কে হচ্ছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারী ?
জানা যায়, ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারী সর্বশেষ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে এডভোকেট শামসুর রহমান খান শাহজাহানকে সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীবিদ ফজলুর রহমান খান ফারুককে সম্পাদক করা হয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির সভাপতিসহ ১৩ জন সদস্য ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এছাড়া ৩ বছরের নির্বাচিত কমিটি পার করেছে ১১ বছর। নানা কারণে সম্মেলন না হওয়ায় কমিটির অনেক সদস্যই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা রকমের লবিং-গ্রুপিং। তারপরও দলের কান্ডারী হিসেবে ফজলুর রহমান খান ফারুক আওয়ামী লীগের একক নেতা হিসেবে মাঠ দখলে রেখেছেন। তিনি জানান, সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। গণতান্ত্রিকভাবে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে । তিনি আরো জানান, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়ার চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. তারানা হালিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
১১ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতি পদে ২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জনের নাম জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন, সভাপতি পদে বর্ষীয়ান নেতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সাংসদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ভোলা এমপি‘র নাম বলছেন কেউ কেউ।
এবার সম্মেলনে মূলত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হবে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। এ পদের প্রার্থীরা তাদের পক্ষে সমর্থন ও ভোট পেতে প্রতিটি উপজেলায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত সেই পদটি কে পাবেন তার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্মেলনের দিন পর্যন্ত।
সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জনের নাম শোনা যাচ্ছে, এরা হলেন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আলমগীর খান মেনু, সা‘দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ভিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান খান স্মৃতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফারুক আহমেদ এর স্ত্রী নাহার আহমেদ।
টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি চলছে । সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি উপজেলা শহরে কমপক্ষে ১০টি করে এবং জেলা সদরে দুই শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
সম্মেলনে দলের ৪৩৯জন কাউন্সিলর তাদের মতামত প্রদানের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য নেতা নির্বাচিত করবেন। কারা নেতৃত্বে আসতে পারেন-এমন প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর মেলেনি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে। তবে অনেকে মনে করছেন এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি পক্ষ পরিবর্তনশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের চেষ্টা করছেন। আর অপর পক্ষটি সম্মেলনের মাধ্যমে শক্তি ও জনবল প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরোনো নেতৃত্ব বহাল রাখার পক্ষে কাজ করছেন।
মাঠ পর্যায়ের ভোটার বা কাউন্সিলরদের চিন্তা ভাবনা হচ্ছে, নেতৃত্বে যারাই আসুক তারা যেনো ক্যাডার নির্ভর হয়ে না পড়েন। আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গণতন্ত্রের চর্চা হওয়া উচিত।






