ভারতের কেরালার কোল্লামে মন্দিরে আতশবাজির বিস্ফোরণে লাগা আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২-তে ঠেকেছে। আগুনে দগ্ধ ও আহত হয়েছে প্রায় ৪শ’ জন। ওই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা দায়ের হয়েছে আতশবাজির দুই কন্ট্রাকটরের নামে।
ভরকালা কৃষ্ণানকুট্টি ও কাঝাকুট্টাম সুরেন্দ্রন নামের এই দুই কনট্রাকটর মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে আতশবাজির দায়িত্বে ছিলেন। মন্দিরে বিস্ফোরণে সুরেন্দ্রন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর কৃষ্ণানকুট্টি পলাতক।
এছাড়া বিস্ফোরণের সময় পুত্তিঙ্গল মন্দিরের দায়িত্বে টেম্পল বোর্ডের কয়েকজন সদস্যসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেরালা পুলিশ।
পুত্তিঙ্গল কালী মন্দির প্রাঙ্গণ ও সামনের মাঠে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিলো স্থানীয় ‘ভিসু’ নববর্ষ উপলক্ষে আতশবাজি উৎসব দেখার জন্য। এজন্যই আধ কিলোমিটার ব্যাপ্তির এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এতো বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু এতোকিছুর পরও কেরালার প্রায় ১ হাজার মন্দিরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা টেম্পল বোর্ড আতশবাজির ওপর স্থানীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এর জন্য আতশবাজির উৎসব নিষিদ্ধ করা যাবে না।
আতশবাজি ব্যবহারে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা না মানায় এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দোষী করা হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষকে। শুধু তাই নয়, রাত ১০টার পর আতশবাজি না করার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও অমান্য করে তারা।
মন্দির প্রাঙ্গণে আতশবাজি উৎসব চলার সময় গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জলন্ত একটি বাজি কাছে স্তুপ করে রাখা আতশবাজির ছাউনিতে পড়লে সাথে সাথেই সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে যায়। ওই ঘটনায় মন্দিরের ছাদ উড়ে যায় এবং কাছের আরেকটি ভবনও ধসে পড়ে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিলো যে, ঘটনাস্থল থেকে ২ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি শোরুমেরও সামনের দিকের সব কাচ ভেঙ্গে পড়ে।










