বাসে অগ্নিসংযোগের পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলার কার্যক্রমে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতির আদালত।
এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।
সেই সাথে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি আগামী ২৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারন করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজকের এই আদেশের ফলে এই মামলা বিচারিক আদালতে চলতে বাধা নেই বলে জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একটি এবং ৩ ফেব্রুয়ারি দুটি মামলা দায়ের করা হয় চৌদ্দগ্রাম থানায়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার হালদারপাড়া এলাকায় কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় (মামলা নং-৪৩) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩)/ ২৫ (ডি) ধারায় একটি মামলা হয়। জেলা ও দায়রা জজ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল -১ এ এই মামলা বিচারাধীন। তবে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর এই মামলা হাইকোর্ট থেকে স্থগিত করা হয়।
আর ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় আটজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।
এই ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় (মামলা নং- ৫) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ (ঘ) ধারায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপি ও জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটির কার্যক্রম চলছে। আর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা অন্য মামলাটির কার্যক্রম এতদিন স্থগিত ছিল। সেই স্থগিতাদেশ স্থগিত করলেন চেম্বার বিচারপতির আদালত।







