গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা অনেক মেয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন।
এমন একটি অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বুধবার এক নিরাপত্তা প্রহরীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, যথাযথ তদারকি না থাকায় এসব ঘটনা ঘটছে।
২৬ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অভিযোগ করেন, ঢাকা ও সিলেট কারাগার এবং গাজীপুর নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্যের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চ্যানেল আই প্রতিনিধি গাজীপুরের কোনাবাড়ি কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে যান। কিন্তু মুল ফটক দিয়ে প্রবেশের সময়ই নিরাপত্তা প্রহরীরা বাধা দেন।
অফিসে কোনো কর্মকর্তা আছেন কিনা জানতে চাইলে ওই নিরাপত্তা প্রহরী জানান, অফিসে কেউ নেই।
একটু পরে সেখানকার অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন এক এনজিও প্রতিনিধি। তিনি জানান, সেখানে তিনি মেয়েদের কাউন্সেলিং করেন। অফিসে কেউ না থাকায় তিনি নিজেও চলে যাচ্ছেন।
এনজিও প্রতিনিধির কাছে থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে খোঁজ করা হয় তত্ত্বাবধায়ক তাসনিম ফেরদৌসীকে। কিন্তু তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে গাজীপুর সদর থেকে কেন্দ্রে আসেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বন্দী কিশোরীদের উপর যৌন নির্যাতন হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে।
তাদের বক্তব্য, তারা এই বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক নন। তারা ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে তাদের যে মুখপাত্র আছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কেন্দ্রের এক কর্মচারি জানালেন, এক কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে নিরাপত্তা প্রহরী কাওসার ভূঁইয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা প্রশাসনের তদন্তেও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের বিষয়টি ধরা পড়ে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) এস এ মোস্তফা কামাল বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্য শুনে তিনি নিজে সেখানে গিয়েছেন। সেখানে থাকা কিশোরীদের কাছে জানতে চেয়েছেন তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। তখন পাঁচ ছয়জন মেয়ে অভিযোগ করে তারা নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি জানান, এক মেয়ের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কাওসার ভূঁইয়া নামের এক নিরাপত্তা রক্ষীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।
কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র ছাড়াও গাজীপুরের কারাগার এবং মহিলা উন্নয়ন কেন্দ্রের বন্দীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখছে জেলা প্রশাসন।






