সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জিকে গউসসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে।
রোববার সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ সকল আসামীর উপস্থিতিতে এ হত্যা মামলায় চার্জ গঠন করা হয়। এর আগে ৯ বার মামলাটির অভিযোগ গঠনের তারিখ পেছানো হয়। সকাল ১১টা দিকে এই মামলার চার্জ গঠনের জন্য আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১৪ আসামীকে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মকবুল আহসানের আদালতে হাজির করা হয়।
দীর্ঘ ১০ বছর পর শুরু হলো সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার কাজ। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ নিহত হন তার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলীসহ পাঁচজন। ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হলেও নানা কারণে বিলম্বিত হয় মামলার অগ্রগতি। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর অবশেষে সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার বরখাস্ত মেয়র জিকে গউসসহ ৩২ জন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন পর আদালত চার্জ গঠন করেছেন। ১০ জন পলাতক, ১৪ জন জেল হাজতে, ৮ জন জামিনে রয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে আজ চার্জ গঠন করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর মকবুল হোসেন বলেন, আইনের বাধ্যবাধকতা আছে যে ৯০ দিনের মধ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। যদি না হয় তাহলে হাইকোর্টের আদেশক্রমে আরো ৩০ দিন। এর মধ্যেও না হলে তার কারণ ব্যাখ্যা করে আরো ১৫ দিনের সময় পাওয়া যাবে। মোট ১৩৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই মামলার কাজ শেষ করতে হবে। চার্জ গঠন হয়েছে, এখন নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার কাজ আদালতে সম্পন্ন হবে।
রোববার সকালে চার্জ গঠনের জন্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আরিফুলসহ মামলার ২২ আসামীকে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মকবুল আহসানের আদালতে হাজির করা হয়। সে সময় আরিফুলের আইনজীবী মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালে আদালত তা খারিজ করে দেন।
আসামীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ লালা বলেন, এই মামলার সাক্ষীদের কেউ আরিফুল হক চৌধুরীর নাম বলে নাই। এজাহারে তার নাম ছিলো না। আমরা বলেছিলাম তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের যোগ্য নয়। আদালত আমাদের কথায় প্রীত হয়েছেন, তিনি বলেছেন বিচারের সময় তিনি সেটা দেখবেন।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর।
এর আগে গত ২১ জুন, ৬, ১৪ ও ২৩ জুলাই এবং ৩, ১০, ১৮, ২৫ আগস্ট ও ৬ সেপ্টেম্বর আলোচিত এই মামলার চার্জ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সব আসামী আদালতে হাজির করতে না পারায় চার্জ গঠনের তারিখ পিছিয়ে যায়।







