দুপুরের রোদ বাঁচিয়ে সংবাদ সহকর্মীরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান-প্রদানে ব্যস্ত! তাতে ছেদও পড়ল দ্রুতই। কাঙ্ক্ষিত কালো গাড়িটা যে এসে পড়েছে। যার জন্য অপেক্ষা, সেই সাকিব আল হাসানই চালকের আসনে! লাগাতার জ্বলতে থাকল ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। হাতে দুটো প্যাকেট সমেত নেমেই জানতে চাইলেন, সবাই এসে গেছেন? শুরু করে দিবো? আবার নিজেই দশ মিনিট চেয়ে নিয়ে চারতলার ফ্ল্যাটে উঠে গেলেন।
সবার প্রতীক্ষাটা আরও দীর্ঘ হল। দুপুর দেড়টায় নিজ বাসায় সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসার কথা ছিল সাকিবের। এলেন ১৫মিনিট পর। সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ইচ্ছে করেই সময়টা হাতে রাখা হয়েছে। যাতে সকলে গুছিয়ে নেওয়ার পর সাকিব শুরু করতে পারেন। সাকিবের সব কিছুতেই এমন পরিকল্পনার ছাপ!
সাকিব অবশ্য এমনিতেই পয়েন্ট টু পয়েন্ট, কাট টু কাট টাইপের মানুষ। গুছিয়ে গুছিয়েই কথা বলেন। ধার ধরেন না আবেগের। যেন পেশাদারিত্বের মূর্ত প্রতীক! এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। পুরোটা সময়ই মুখে হাসি ধরে রেখে উত্তর করে গেলেন অপ্রিয় অনেক প্রশ্নের। যাতে জানা গেল ক্রিকেটে সাকিবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশ্রাম চাওয়ার আসল কারণ, সেটা মেলার পর তার মনের মাঝে কি ঘটে চলেছে।
সাকিব ৬ মাসের টেস্ট বিশ্রাম চেয়েছিলেন। সেটা না মিললেও বিসিবি তাকে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এরপরই প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে আসছে, দুই টেস্টের সময়টাতে কতটুকুই-বা বিশ্রাম মিলবে সাকিবের। সাকিব সময়টা এক মাসের মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, আপাতত এটাই পর্যাপ্ত তার জন্য।
শরীর নয়, মূলত মানসিক অবসাদের জন্যই এই স্বেচ্ছা বিরতি। সাকিব শুরু থেকেই এই পয়েন্টটা ধরে রেখে এগোলেন। কিন্তু সময়টাতে রঙিন পোশাকে খেলবেন, খেলবেন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও। প্রশ্নটা তাই বড়ই হচ্ছে, সাকিব কি দেশের খুব প্রয়োজনের সময় নিজেকে সরিয়ে রাখলেন? ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তো তাকেই সামনে থেকে ব্যাটে-বলে নেতৃত্ব দিতে হত। তার অভাবে কি দল ভুগবে না?
অনেকটা জীবনমুখী উত্তর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের, ‘মনে হয় না আমার থাকা না থাকা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে। দুনিয়াতে কোনও জিনিসই তো কারও জন্য অপেক্ষা করে না। মন থেকে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ অনেক ভাল করবে সেখানে। ভালো করার ধারাটা অব্যাহত থাকবে। যে যাবে, সেও ভালো করবে। সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং হবে সেখানে খেলা। সবার ভেতর বাড়তি চেষ্টাও থাকবে ভালো করার।’
তারপরও প্রশ্ন ছুটে যায়, বিশ্রামটা কি সাউথ আফ্রিকা সিরিজের পরে নিলে হত না? সাকিব সাবলীলভাবেই বলে যান, ‘যদি মনে হত পরে নিলেও চলবে, পরেই নিতাম। মনে হল, এখনই বিশ্রামের উপযুক্ত সময়। সেজন্যই নেয়া। তাছাড়া সবার মনের সঙ্গে তো সবার মিল থাকবে না। মতের সঙ্গে মতের মিলও হবে না। এটাই স্বাভাবিক। আমার জায়গায় থাকলে হয়ত আমার অবস্থানটা বুঝতেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। আশা করি, এটা অবশ্যই ভালো কিছু দেবে।’
সাকিব যতই বলুন, দল তার অভাব বুঝবেই। তিনি মাঠে থাকা মানেই তো দুজন খেলোয়াড়ের কাজ একা করে দেওয়া। সেটা সাকিবও হয়ত ভালো করেই বোঝেন। এরপরও বিশ্রামটা তার চাই-ই। পেয়েছেনও। সেটা কিভাবে কাটাবেন জানা গেল তার মুখেই।
‘জানি না কি করব। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। হয়ত বাইরে ঘুরতে যাবো। পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেবো। ক্রিকেট থেকে বাইরে থাকাটা মাঝেমধ্যে খুবই জরুরি। চেষ্টা থাকবে যত বেশি বাইরে থাকতে পারি। সাউথ আফ্রিকায় যেহেতু ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি আছে, সেটার প্রস্তুতিও শুরু করব। কিন্তু কয়েক দিন পর।’







