মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৫-তে অংশ নিতে চীনের আয়োজক শহরে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কানাডার প্রতিযোগী অ্যানাস্টেশিয়া লিন। চীনা বংশদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী এই প্রতিযোগী দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
চীনের সানইয়া শহরে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর। লিন জানান, কানাডা থেকে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগী হওয়া স্বত্ত্বেও অনুষ্ঠানের জন্য তাকে কোনো আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি। যে কারণে তিনি প্রতিযোগী হিসেবে ভিসার আবেদন করতে পারেননি।
এরপর লিন কানাডা থেকে পর্যটক হিসেবে ভিসা নিয়ে সানইয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগে হংকং যান। কানাডা থেকে খুব সহজেই পর্যটক ভিসায় হংকং হয়ে সানইয়া যাওয়া যায়। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কানাডাসহ বিশেষ কিছু দেশের জন্য এই ভিসা পাওয়া যায়।
কিন্তু লিন হংকং থেকে সেই চেষ্টা করলে তাকে বিমানে চড়তে বাধা দেওয়া হয়। লিনের অভিযোগ, মানবাধিকার বিষয়ে তার কর্মকাণ্ডের কারণেই তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
লিন আগে থেকেই চীনে প্রচলিত ‘দমন-নিপীড়ন এবং সেন্সরশিপ’-এর সমালোচনা করে আসছেন। এছাড়াও তিনি চীনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মবিশ্বাস ‘ফালুন গং’-এর অনুসারী।
লিনকে আমন্ত্রণপত্র না পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিযোগিতার আয়োজকদের সঙ্গে গণমাধ্যমগুলো যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা সাড়া দেয়নি। তবে কানাডাভিত্তিক পত্রিকা দ্যা গ্লোব এবং মেইলে জানানো হয়, ওটাওয়াতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, ‘চীনের জন্য কূটনৈতিকভাবে অবাঞ্ছিত কোনো ব্যক্তিকে চীনে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
অংশ নিতে বাধা দেওয়ার ব্যাপারটিকে দুর্ভাগ্যজনক, তবে পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত নয় বলে মনে করেন লিন। তিনি বলেন, ‘চীন সরকার আমাকে রাজনৈতিক কারণে প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছে। তারা আমাকে আমার ধর্মবিশ্বাসের জন্য শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যুগুলো নিয়ে আমি কথা বলতে না পারি সেটাই চাইছে।’
অ্যানাস্টেশিয়া লিন ২০০৩ সালে চীন থেকে কানাডায় চলে আসেন। তিনি চীনে ফালুন গং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর অত্যাচার নিয়ে নির্মিত বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। গত জুলাইয়ে তিনি মার্কিন কংগ্রেশনাল কমিটিতে এ বিষয়ে বক্তব্যও রাখেন।
লিনের দাবি, মানবাধিকার নিয়ে তার প্রচারণা এবং কাজের জন্য চীনে বসবাসকারী তার বাবাকে সরকারি কর্মকর্তারা হয়রানি করছেন।






