ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজা নিয়ে বিবৃতি দেয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীকে আদালত অবমাননার দায়ে আদালতের ডকে ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সাজা ভোগ করেছেন। প্রথমে তিনি আদালতের ডকে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান।
আদেশের ১ ঘন্টা ২০ মিনিট পরে আসামির কাঠগড়ায় এক ঘণ্টা থেকে তিনি আদালত অবমাননার সাজা ভোগ করেন। একই সাথে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয় তাঁকে, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
আদালত অবমাননার একই অভিযোগ থেকে আনু মোহাম্মদ, আসিফ নজরুলসহ অন্য ২২ ব্যক্তিকে সতর্ক করে ক্ষমা করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ২৩ বিবৃতিদাতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এই বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। দুপুর ১১টা ২৫ মিনিটে আদেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল উঠে যাওয়ার পর আসামির কাঠগড়ায় যেতে রাজি হননি জাফরুল্লাহ।
উপস্থিত পুলিশ সদস্য, শিক্ষক আসিফ নজরুল ও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার গিয়ে তাঁকে আসামির কাঠগড়ায় উঠতে বললেও তিনি তা করেননি। এই সময়ে অন্য ২২ বিশিষ্ট ব্যক্তি তার সাথে থাকলেও তাদের আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে লিখিত অনুলিপি পড়ে স্বেচ্ছায় কাঠগড়ায় ওঠেন ডা. জাফরুল্লাহ। সেখানে এক ঘণ্টা থাকার পর জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১টা ৪৫ মিনিটে কাঠগড়া থেকে নেমে আসেন।
দাঁড় করিয়ে রাখা পৃথিবীতে সবচেয়ে অভদ্রজনিত ব্যবহার উল্লেখ করে সাংবাদিকদের জাফরুল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দাঁড় করিয়ে রাখা অর্থহীন, প্রাগৈতিহাসিক ও মধ্যযুগের ঘটনা।
তিনি উচ্চ আদালতের আপিলের সুযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাকে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ না দিয়ে ওনারা তাড়াতাড়ি চলে গেছেন। আমি তো জরিমানা দেবো না। উচ্চতর আদালতে আপিল করব। আপিলে যা হয় দেখা যাবে।
ট্রাইব্যুনালের সম্মান রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ব্যরিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, যেহেতু এখানকার বেশিরভাগ ব্যক্তিরা প্রথমবারের মতো এই ট্রাইব্যুনালের বিপক্ষে এ ধরনের একটি মন্তব্য করেছেন, তাই তাদেরকে এখন শুধু সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচার বিষয়ে কোনো কিছু বলার আগে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
আদালত অবমাননার দায়ে বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের ৫০ নাগরিক বিবৃতি দেওয়ার পর মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির নাম প্রত্যাহার করে নেন। ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ৪৯ বিবৃতিদাতার কাছে ব্যাখ্যা চান। তাদের মধ্যে ২৬ বিবৃতিদাতা নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধে ১ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল দেন ট্রাইব্যুনাল।







