মারাত্মক করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি যে দেশে, সেই চীনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা স্বীকার করেছেন ভাইরাস মোকাবেলায় নেয়া জরুরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ‘ত্রুটি ও ঘাটতি’ থাকার কথা।
‘পলিটবুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি’ নামের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সংগঠনটির মতে, এ বিষয়ে যে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি রয়েছে তার উন্নয়ন করা দরকার।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস ব্যবস্থাপনার বিষয়টি চীনের প্রশাসনের জন্য একটি ‘বড় পরীক্ষা’ হিসেবে কাজ করছে। এখান থেকে সরকারকে শিক্ষা নিতে হবে।
‘এই মহামারী প্রতিহত করতে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে যে ত্রুটি ও ঘাটতিগুলো বেরিয়ে এসেছে সেগুলো মোকাবেলা করতে আমাদের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে অনেক উন্নত করতে হবে এবং একই সঙ্গে আমাদের জরুরি ও বিপজ্জনক সমস্যা সামলানোর দক্ষতা বাড়াতে হবে।’
এর অংশ হিসেবে বন্যপ্রাণীর পাচার ও অবৈধ ব্যবসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে বাজারের ওপর নজরদারিও জোরদার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
বিবিসি জানায়, চীনে করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৫ জনে। সোমবার পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
মাত্র এক দিনেই নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার। শুধু সোমবারই ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, এদের সবাই হুবেই প্রদেশের অধিবাসী।
হুবেইয়ের উহান শহরই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে বিবেচিত।
চীনের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ। ফিলিপিন্সে মারা গেছেন একজন।
তবে ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কথা মেনে নিলেও চীন অভিযোগ করেছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। দেশটি প্রথমবারের মতো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ বেইজিংয়ের।
ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় চীনের পুঁজিবাজারে ধস নেমেছে। চান্দ্র নববর্ষের ছুটি শেষে শেয়ারবাজারের কর্মকাণ্ড চালু হতেই সেখানে দেখা গেছে বড় রকমের দরপতন।
দেশটিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় অবরুদ্ধ করা হয়েছে ঝেজিয়াং প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় ওয়েংঝু শহর। এদিকে হংকং সোমবার চীনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম জনগণের চাপের মুখে সীমান্তে বন্ধের ঘোষণা দেন।








