প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তিন ব্যক্তির দেহে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) জীবাণু সংক্রমণের খবরে দেশজুড়ে নানান প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এরই মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, আতঙ্কের কিছু নেই। করোনা মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেয়া। জনসমাগম পরিহারের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘরে বেশির ভাগ সময় অবস্থান করে নিজেকে সুরক্ষা করা সম্ভব।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বের শতাধিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে বলে রোববার নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?
চিকিৎসকরা বলছেন, শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। যদিও খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। তবে এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
পঞ্চাশ ঊর্ধ্বদের সংক্রমণ, মৃত্যু ঝুঁকি বেশি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা সচেতনতা তৈরি করেছি। এখন সেই সচেতনতা প্রকাশের পালা। যাদের বয়স পঞ্চাশের বেশি, তাদের বিষয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশ্বে করোনায় আক্রান্তদের অধিকাংশই বয়সে পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে। আর তাদেরই মৃত্যু ঝুঁকি বেশি।’
‘‘আমাদের দেশের বয়স্কদের মধ্যে করোনা বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে এবং তাদের সর্তক করতে হবে। পাশাপাশি আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। জনসমাগম যুক্ত স্থান পরিহার করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সবচেয়ে প্রয়োজন আউটডোরে না থেকে ইনডোরে থাকা।’’
শিশুরা কি ঝুঁকিতে?
ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘যে কোনো বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।’
‘‘করোনা ভাইরাস কখনোই শিশু ও তরুণদের জন্য হুমকি নয়। দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ৫০ বছর ঊর্ধ্বে যারা আছে, তারাই সংক্রামিত হচ্ছে এবং মৃত্যুও হচ্ছে তাদেরই। তবে শিশু ও তরুণরা যে আক্রান্ত হবে না- এমনটা নয়। পরিসংখ্যান বলছে, শিশু ও তরুণদের মৃত্যু ঝুঁকি নেই।’’
তিনি মনে করেন শিশুদের ও তরুণদের শরীরে এই ভাইরাসটা ক্ষতি করতে পারছে না। আবার আরেকটি কারণ হতে পারে বয়স্করা বিভিন্ন রোগে আগে থেকেই অসুস্থ থাকে। আর সেই সুযোগটা নিচ্ছে এই ভাইরাস।
করোনা থেকে বাঁচতে করণীয়
১. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে।
২. বারবার প্রয়োজন মতো সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমণস্থলে ভ্রমণ করলে।
৩. ভ্রমণের সময় কাশি শিষ্টাচার অনুশীলন করতে হবে (আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়া, যেখানে-সেখানে কফ কাশি না ফেলা)।
৪. করমর্দন এবং কোলাকুলির মাধ্যমেও করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই এই কাজ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
এছাড়াও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে খাবার রান্না বা তৈরি করার আগে ও পরে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে, বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে, বাইরে থেকে বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই জীবাণুনাশক হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে অবশ্যই হাত ধুতে হবে।
জীবাণুনাশক ক্লিনিং স্প্রে দিয়ে বাড়ি-ঘর ভালো মতো পরিষ্কার করাও জরুরি। বাসায় বক্সড টিস্যু, ভেজা টিস্যু, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং পকেট টিস্যু ব্যবহার করে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে শতাধিক দেশের লক্ষাধিক মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। যার বেশির ভাগই চীনের। এছাড়াও সাউথ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানের পরিস্থিতিও ভয়াবহ।







