জাতীয় ক্রিকেট দলের পৃষ্ঠপোষক স্বত্ত্বের ভিত্তিমূল্য দ্বিগুণ করার পর সরকারি অনেক খাতের মতো মাশরাফি-মুশফিকদের বেতন আর ম্যাচ ফি দ্বিগুণ হারে বাড়িয়েছে বিসিবি। কিন্তু বিসিবির স্বত্ত্ব কিনে নেয়া স্পন্সররা মাশরাফি-মুশফিকদের পাশাপাশি জাতীয় মহিলা দলের পৃষ্ঠপোষকতা করে এলেও নারী ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি বিসিবি’র কর্তারা! এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে বিসিবি সভাপতির ডাকা শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে। সাংবাদিকরা যখন তাকে নারী ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানো হয়েছে কী না বলে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, তখন একরকম হতবাক হতে দেখা গেছে তাকে। তিনি জানালেন, এখন পর্যন্ত মেয়েদের বেতন বাড়ানোর কোন প্রস্তাব আসেনি। আর প্রস্তাব না আসায় তার মাথায়ও বিষয়টি একবারের জন্য আসেনি। এ যেন সত্তর কিংবা আশির দশকে দেশের গ্রামাঞ্চলে অভিভাবক কর্তৃক ছেলে আর মেয়ের মধ্যে তৈরি করা বিভাজনের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার এক চিরায়ত রূপ। ক্রিকেট বোর্ড নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে কতোটুকু ভাবে এই বিষয়টি থেকে তা সহজেই বুঝা যায়। অবশ্য এবারের ঘটনা প্রথমবারের মতো নয়। এর আগেও এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের নাম উজ্জল করা মেয়ে ফুটবলার সানজিদা-মারিয়াদের নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের কলসিন্দুরে যাত্রিবাহী লক্কর-ঝক্কর গাড়িতে করে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এমনকি ওই গাড়িতে থাকা যাত্রিদের দ্বারা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা এই মেয়েদের মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবরও আমাদেরকে শুনতে হয়েছে। দেশের এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পরও নিজেদের ব্যর্থতার কারণে ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের তেমন কোনো শাস্তির খবর আমরা পাইনি। এই দুটি ঘটনা মেয়েদের উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ের দুটি প্রতিষ্ঠানের চিন্তা-চেতনার দৈন্যদশার কথাই আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ক্রিকেট ও ফুটবলে নারী খেলোয়াড়দের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে উচ্ছসিত, সেখানে অন্যান্য অনেক সেক্টরের মতো বাফুফে এবং বিসিবি এখনো চিন্তা-চেতনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলেই আমাদের ধরে নিতে হচ্ছে। তবে সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে মেয়েরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে এসে নিজেদের সফলতার মাধ্যমে চালকের আসনে থাকবে বলেই আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবি ও বাফুফে’র মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন না হয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পরিকল্পনা এবং কর্মপদ্ধতি নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য আমাদের উদাত্ত আহ্বান রইলো।








