প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতেই কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে সাগর পাড়ের বালিয়াড়ীতে আনন্দে মেতে উঠেছেন অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু। তাদের কাছে এবার বোনাস হয়ে এসেছে টানা কয়েকদিনের ছুটি।
পর্যটকদের অভিযোগ হোটেলের কক্ষ ভাড়া, সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের ভাড়া আর খাবারের দোকানগুলোতে এই সুযোগে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি অর্থ আদায় করছে।
অবশ্য পর্যটকদের ভিড় থাকলেও সমুদ্র স্নান আর ঘুরাঘুরি ছাড়া পর্যটকদের জন্যে নেই তেমন কোন বিনোদনের ব্যবস্থা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারকে আরো পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বেড়াতে আসা এসব পর্যটকরা।
খুলনা থেকে আসা পর্যটক রবিউল ইসলাম ও নিগার সোলতানা বলেন, সুন্দর ও পরিবেশ রক্ষার পাশপাশি পর্যটকদের জন্য আরো সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
অবার অনেকে কক্সবাজারে এসে ভালো লাগার কথা ও জানান। রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রফিক মাহমুদ বলেন, ছুটি পেয়েই ছুটে এলাম কক্সবাজারে। পরিবার নিয়ে খুব ভালো সময় পার করছি।
সিলেট থেকে আসা জিসান অভিযোগ করে বলেন, ৫শ’ টাকা দামের হোটেল ভাড়া নিয়েছে ৩ হাজার টাকা। এটা প্রশাসনের দেখা উচিত।
কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, হোটেলে ও সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে অতিরক্তি ভাড়া আদায় করা হলে ও এটা দেখার কেউ নেই।
“৫শ‘ টাকার হোটেল ৩ জাহার টাকায় আর সেন্টমার্টিনগামী ৭ শ টাকার জাহাজ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। খাবারের দোকানগুলোতে ও গলাকাটার আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, এটা বন্ধ না হলে পর্যটকরা কক্সবাজার বিমুখ হবে।
স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় বিপুল পর্যটক আসার পাশপাশি হোটেল-মোটেলে কক্ষ খালি নেই বলে জানান, মোটেল লাবনীর ব্যবস্থাপক রাশেদুল হক খান ।
তিনি বলেন, প্রায় রুম এক মাস আগে বুকিং হয়ে যায়।
গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ভাল সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে হোটেল দ্যা কক্সটুড়ের সহব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, আমরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করি না। আমাদের সব রুম ৩ মাস আগে বুকিং হয়ে যায়।
বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এবার বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রথম বারের মতো কুইক রেস্পনস্ টিম রাখার কথা জানিয়ে টুরিস্ট পুলিশ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হুসাইন মো: রায়হান কাজেমী বলেন, সব পর্যটন স্পটে আমাদের টিম রয়েছে। কোন পর্যটক যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সে জন্য আমাদের বিশেষ নজরদারী রয়েছে।
কক্সবাজারে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে সাড়ে চার শতাধিক। এসব হোটেলে পর্যটক ধারন ক্ষমতা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি।
যদিও হোটেলের সব রুম অনেক আগে বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটককে কষ্ট শিকার করতে হয়েছে জানিয়ে হোটেল ওর্নাস এসোসিয়েশনের সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা যেন কষ্ট না পায় আর হয়রানির শিকার না হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।









