‘ও আল্লাহ, আমাগো তিনজনই নিয়া গেলা? ও আল্লাহ, আমি মা রে এহন কি জবাব দিব?’
ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনের মাটিতে গড়াগড়ি করে এমন হৃদয় বিদীর্ণ করা বিলাপ জরিনা বেগমের। চকবাজারের ভয়াবহ আগুনে নিহত হয়েছেন তার দুই ভাই। হারিয়েছেন মাত্র তিন বছরের এক ভাতিজাকেও।
এমন বিলাপের করে একটু পর পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন জরিনা। আবার জ্ঞান ফিরে তার সেই চিৎকার, ‘ও আল্লাহ, এখন আমাগো কি হবে? আমাগো সব আলো তো নিভে গেল।’
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় রাজ্জাক ভবনের ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে জরিনার ভাই মোঃ আলি (৩৫) ও তার ৩ বছরের শিশুপুত্র আরাফাত এবং আরেক ভাই মোঃ অপু (৩৩)।
জরিনার পাশে থাকা তার একজন স্বজন এ তথ্য জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ‘আগুন লাগা বিল্ডিংয়ে একটু পাশের একটা দোকান ছিল এদের। এরা আগুন লাগার পর দোকান বন্ধ করে আসছিলো। আর ঘরে ফেরা হল না ওদের। ভাগ্য ভালো আর তিন ভাইয়ের ছোট ভাই দিপু ওখানে তখন ছিল না। তাই বেঁচে গেছে। এদের বাসা রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের পাশে।’
মর্মান্তিক এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জন মারা গেছে। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ৬৬ জন, নারী ৭ জন ও শিশু ৫ জন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানসনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
এলাকাবাসী বলছে, ওই ভবনের কারখানা থেকে আগুন ছড়িয়েছে। কেউ বলছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ আবার কেউ বলছে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়ায়। ওয়াহিদ ম্যানসনের নিচতলায় প্লাস্টিকের গোডাউন ছিল। ওপরে ছিল পারফিউমের গোডাউন।
এ আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সকাল ৯টার দিকে জানিয়েছে, টানা দশ ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে আগুন। পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে এখন উদ্ধারকাজ চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট এবং বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার।
সড়ক পরিবহন ও সেতু বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনা খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে সরকার। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
ঘটনা তদন্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।








