মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যখন হাঁটতে-চলতে শিখেছেন, তখন সবচেয়ে বেশি শুনেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার কথা। বুঝতে শুরু করার পর থেকেই আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরের বড় ভক্ত বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। তার চোখে এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকার নামটি ম্যারাডোনা।
মাশরাফীর জন্ম ১৯৮৩ সালে। আর ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনাকে জেতান ১৯৮৬-এর বিশ্বকাপ। যে কারণেই কিংবদন্তির গল্পগুলো সবচেয়ে বেশি শোনা। পরে টিভিতে খেলা দেখায় ভালোলাগা ক্রমেই বেড়ে চলা। ম্যাশ ছোটবেলার সেই ভালোবাসা ধরে রেখেছেন, রাখবেন চিরকাল।
মাশরাফীর দুই সন্তান হুমায়রা ও সাহেল আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির ভক্ত। তাতে মাশরাফীর স্বস্তি- সবাই তো আর্জেন্টিনাই। নাইজেরিয়ার সঙ্গে ২-১ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে দুই প্রজন্মের সেই ভালোলাগা, ভালোবাসার কথাই তুলে ধরেছেন মাশরাফী।
আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়িয়ে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে একটি ছবিও পোষ্ট করেছেন মাশরাফী। ক্যাপশনে লিখেছেন_ ‘ওরা মেসি, আমি ম্যারাডোনা… জেনারেশন, কিছু করার নাই… তবে সবাই আর্জেন্টিনা।’
মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনা যখন কঠিন পরীক্ষায় ব্যস্ত, নিজ ঘরকে তখন স্টেডিয়াম বানিয়ে ফেলেছিলেন মাশরাফী। ড্রয়িংরুমে টিভির সামনে হুমায়রা, সাহেল, মাশরাফী আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি গায়ে জড়িয়ে বসেছিলেন জয়ের প্রার্থনায়। ঘরই যেন হয়ে গিয়েছিল সেন্ট পিটার্সবার্গের গ্যালারি!

খেলা শেষ হতেই ফেসবুকে প্রথম স্ট্যাটাসে মাশরাফী ম্যারাডোনার প্রতি মুগ্ধতার প্রকাশ ঘটান। লেখেন- ‘পৃথিবীর একজন খেলোয়াড়কে দেখলে আমার আবেগ উতলায় আসে কেন জানিনা। সে না খেললেও মনে হয়না খেলছেনা, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ আমার গুরুকে শান্তিতে একটা রাত ঘুমাতে দেওয়ার জন্য।’
আর্জেন্টিনার জয়ে কতটা শান্তি পেয়েছেন ম্যারাডোনা তা বোঝা গেছে স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসে তার হরেক কর্মকাণ্ড দেখে। কখনও চোখ বন্ধ করে গোলের জন্য প্রার্থনা করছেন, কখনও স্টেডিয়ামের আর্জেন্টাইন দর্শকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন বারবার হাত উঁচিয়ে।
পুরোটা সময় চিৎকার করেছেন, উল্লাস করে প্রিয় দলকে সমর্থন যুগিয়েছেন ম্যারাডোনা। বয়স ৫৭ হলেও মনের দিক থেকে কতোটা তরুণ সেটিই দেখেছে পুরো বিশ্ব।
তবে মেসিদের জয়ের পর খুব বেশি উল্লাস করতে পারেননি ম্যারাডোনা। হইচই করতে করতে রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল। ম্যাচ শেষ হতেই হাসপাতালে যেতে হয়েছে। শেষ খবর ম্যারাডোনা এখন সুস্থ আছেন।
মাশরাফীর পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও বাবা গোলাম মোর্ত্তজা ব্রাজিলের পাড়ভক্ত। যে কারণে পরিবারের বাবার সঙ্গে বেশি তর্ক জমে ম্যাশের। বিশ্বকাপের সময় নড়াইল থাকলে ব্রাজিল হারলে বাবা ভয়ে থাকেন ছেলের কত কথাই না শুনতে হবে তাকে। আর্জেন্টিনা জিতলে তো কথাই নেই!







