এটা বিশ্বকাপ। এখানে একটা সামান্য ভুল মানেই বিরাট ক্ষতি। ব্যাটিংয়ে নামলে তাই প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হয় ওপেনারদের। লক্ষ্যের শুরুটা হতে হয় নজরকাড়া। কথায় বলে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। সে কথা সত্য প্রমাণ করে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের শুরু থেকে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার ওপেনিং জুটি হিসেবে রীতিমতো চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের।
অস্ট্রেলিয়ার খেলা ৭ ম্যাচে দলের রান ২১২০। এই সাত ম্যাচ খেলে ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের ওপেনিং জুটির রান ৬৪২। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০৭ রান। তারা পৃথকভাবে রান করেছেন ৯৯৬। যা দলের মোট রানের ৪৬.৯৮ শতাংশ। ওয়ার্নার ৫০০, ফিঞ্চ ৪৯৬ করেছেন। ওপেনিং জুটির সাথে দলও সফল। ২ ম্যাচ হাতে রেখেই দল সেমিফাইনালে। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৪০.৭৭।
ফিঞ্চ-ওয়ার্নার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ওপেনিং জুটি হতে পারেন। সাত ম্যাচ পরই প্রতিযোগিতার সেরা চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে ঢুকে গেছেন তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ওপেনিং জুটিতে এর আগে ৫০০ বা তার বেশি রান হয়েছে তিনবার। যার দুবারই করেছেন ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের স্বদেশি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ম্যাথু হেইডেন। ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপের ৫০০ বা তার বেশি রান করেছিলেন গিলি-হেইডেন।
তবে সর্বোচ্চ রানে এখনো পর্যন্ত শীর্ষে আছেন শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান ও উপুল থারাঙ্গা। ২০১১ বিশ্বকাপে দুই লঙ্কান ওপেনার করেছিলেন ৮০০ রান। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে আর ১৫৯ রান দরকার ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের। ফাইনালে না গেলেও সেমিফাইনালসহ আরও তিনটি ম্যাচ হাতে আছে তাদের।
এখন পর্যন্ত ওপেনিংসহ দলগুলোর হালচাল
৭ ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়, বাকি ৬ ম্যাচে বাংলাদেশ দলের রান ১৭৫৬। ছয় ম্যাচে তামিম ইকবালের ওপেনিং সঙ্গী সৌম্য ও লিটন মিলে রান করেছেন ২২৪। মোট রানের ১২.৭৭ শতাংশ। এই বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটি খুব একটা ভালো না করলেও মিডলঅর্ডারের জন্য সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে টাইগাররা। পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে তারা। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৩৯.৯১।
প্রথম ৭ ম্যাচে ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেন করেছেন এ পর্যন্ত তিনজন। ইংলিশদের মোট ২০৭৪ রানের মধ্যে ওপেনিং জুটিতে জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জেমস ভিন্স মিলে করেছেন ৫০০ রান, যা মোট রানের ২৪.১০৮ শতাংশ। প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে ওপেনিং জুটি যখন রান করছিল, তখন দলের রানও বড় হয়েছে। তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোয় জেসন রয় ইনজুরিতে পড়লে ভিন্স-বেয়ারস্টো জুটি সফল হতে পারেনি, ফলে দলের রানও বড় হয়নি। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৪৫.৪৯।
সাত ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায় সাউথ আফ্রিকার। বাকী ৬ ম্যাচে দলের রান ১৩৭৪। ওপেনিং জুটিতে কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা ও এইডেন মার্করাম মিলে করেছেন ৪০৬ রান, যেটা মোট রানের ২৮.৯৪ শতাংশ। এই বিশ্বকাপের ওপেনিং জুটির সাথে সাথে দলগত ভাবেও রড় রকমভাবে ব্যর্থ প্রোটিয়ারা। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৩১.১৭।
সাত ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে পাকিস্তানের, বাকি ৬ ম্যাচে দলের রান ১৪৮০। আসর শুরুর আগে থেকে পাকিস্তান দলের আস্থার প্রতীক ফখর জামান ও ইমাম-উল হক। কিন্তু বিশ্বকাপে নামের প্রতি তেমনভাবে সুবিচার করতে পারেনি তারা। এই জুটির রান ৩৪২। মোট রানের ২৩.১১ শতাংশ। তবে ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হলেও মিডলঅর্ডারের জন্য সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে পাকিস্তান। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৩২.৮৯।
ছয় ম্যাচের মধ্যে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাকি ৫ ম্যাচে দলের রান ১২০৫। এই পাঁচ ম্যাচে ক্যারিবীয়দের হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে ওপেন করেছেন তিনজন। ‘ইউনিভার্স বস’খ্যাত ক্রিস গেইল, এভিন লুইস ও হোপ জুটির রান ২৬৮। মোট রানের ২২.২৪ শতাংশ। দলের উইকেট প্রতি রান ৩০.১৩।
ছয় ম্যাচের মধ্যে দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায় শ্রীলঙ্কার, অন্য ৪ ম্যাচে দলের রান ৮১৬। ওপেনিং জুটি দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা মিলে করেছেন ৩৪১ রান। মোট রানের ৪১.৭৯ শতাংশ। ওপেনিং জুটি সফল হলেও অন্যরা ব্যর্থ। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ২০.৯২।
সাত ম্যাচের মধ্যে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায় নিউজিল্যান্ডের, বাকি ৬ ম্যাচে দলের রান ১৩২৪। ওপেনিং জুটিতে মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরো মিলে করেছেন ২৬৩ রান। মোট রানের ১৯.৮৬ শতাংশ। এই বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হলেও মিডলঅর্ডারের জন্য সেমিফাইনালের দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে আছে কিউইরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র হারের পর পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয়স্থানে কেন উইলিয়ামসনের দল। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৪২.৭১।
সাত ম্যাচে দলের রান ১৩১৬। দলের হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে এ পর্যন্ত আফগানিস্তানের জার্সিতে ওপেন করেছেন চারজন। ওপেনিং জুটি হজরতউল্লাহ জাজাই, নূর আলী জাদরান, আহমেদ শাহজাদ, গুলবাদিব নায়েব ও রহমত শাহ মিলে রান করেছেন ৩২৪। মোট রানের ২৪.৬২ শতাংশ। এই বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটির সাথে সাথে দলও রড় রকমভাবে ব্যর্থ তাদের। এখনো জয়ের মুখ দেখতে পায়নি আফগানরা। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ১৯.৩৫।
পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে, বাকি ৪ ম্যাচে ভারতের দলীয় রান ১১৪৪। শেখর ধাওয়ান (ইনজুরি) ও পরে লোকেশ রাহুলকে নিয়ে রোহিত শর্মা জুটির রান ৫৩২। মোট রানের ৪৬.৫০ শতাংশ। ওপেনিং ও মিডলঅর্ডারের জন্য ভালো অবস্থায় ভারত। এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল তারা। পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয়স্থানে। দলের উইকেট প্রতি গড় রান ৫২।







