পথের ধারে গড়া অস্থায়ী শহীদ মিনার। সে মিনার ফুলে ফুলে শোভিত। যে যুবকেরা গড়েছেন স্মৃতির এ মিনার তারা সবাই পেশায় গাড়িচালক।
২১ শে ফেব্রুয়ারির সকাল। রাজধানির মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া সংলগ্ন মূল সড়কের পাসে গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার চোখে পড়লো। আর সেখান থেকেই মলিন কণ্ঠে ভেসে আসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারী। আমি কি ভুলিতে পারি…।’
এরপর অস্থায়ী সে শহীদ মিনারের কাছে গিয়ে কথা হলো উপস্থিত কয়েকজন যুবকের সাথে। তাদেরই একজন মো: রাসেল।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক রাসেলের কাছে অস্থায়ী শহীদ মিনার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি ভোলা। আমি ঢাকায় প্রাইভেটকার চালাই। থাকি মিরপুরের পুর্ব শেওড়াপাড়ায়। এই এলাকায় থাকা কয়েকজন গাড়ি চালক মিলে প্রতি বছরই আমরা ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে এই রাস্তার পাশে শহীদ মিনার বানাই। সে মিনারে ফুল দেই। আর শহীদ মিনারের পাশে বসে সারাদিন দেশের গান শুনি।’
২১ ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে কি জানেন এমন প্রশ্নে রাসেল বলেন, ‘অনেক বছর আগে এই দিনে বাংলা ভাষার দাবিতে মিছিল করতে থাকা আমাদের দেশের কিছু ভাইকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। তাদের জন্যই আমরা এই দিনে শহীদ মিনার করি। ফুল দেই।’
অস্থায়ী বেদীতে শোভিত ফুল সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল জানান, আমরা এই এলাকায় থাকা ১০-১৫ জন গাড়ি চালক মিলে পাচ-ছয় হাজার টাকা উঠিয়ে এই শহীদ মিনার ওই ফুল আর দেশের গান বাজানোর জন্য সাউন্ড বক্সের ব্যবস্থা করেছি। কারন যাদের জন্য আমরা এসব করছি তারা তো তাদের জীবন দিয়ে আমাদের জন্য বাংলা ভাষা রেখে গেছেন।’
২৬ বছরের যুবক রাসেল জানান: গাড়ি চালক রহিম, নয়ন, রাজিব, বাবু ও জীবন সহ এলাকার কিছু স্কুল পড়ুয়া ছেলে তাদের এই আয়োজনে পাসে থাকেন। ২১ ফেব্রুয়ারির এ আয়োজন তারা প্রতি বছরই তারা করবেন বলে জানান।







