টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায়
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা
জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত
খান বাপ্পাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের সকল স্থাবর-অস্থাবর মালামাল
ক্রোকেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির নির্দেশ দেন।
ওই মামলায় এমপি রানা ও তার তিন ভাই ছাড়া অন্য আসামীরা হলেন, সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, দারোয়ান বাবু ওরফে দাঁত ভাঙ্গা বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন চাঁনে, নাসির উদ্দিন নুর, ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক কমিশনার মাসুদুর রহমান।
এর আগে, গত ৬ এপ্রিল বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত টাঙ্গাইল সদরের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম মামলার শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
নির্ধারিত সময়ে আসামীরা হাজির না হওয়ায় আদালত এ আদেশ দেন। সেই সাথে সকল আসামীদের আগামী ১৬ জুনের মধ্যে আদালতে হাজিরেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি খান পরিবারের চারভাই সহ ১৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এদের মধ্যে আনিছুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, সমীর মিয়া ও ফরিদ আহমেদ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে।
টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পলাতক ১০ জন আসামীদের মধ্যে ৯ জনের মালামাল ক্রোকের আদেশ টাঙ্গাইল থানায় ও বাকী একজনের আদেশ কালিহাতী থানায় পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক ভূইয়া জানান, আসামীদের মালামাল ক্রোকের আদেশ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রানা ও তার ছোট ভাই বাপ্পা তাদের কলেজপাড়া বাসভবনের কাছে গ্লোবাল ট্রেনিং সেন্টারে সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহকারী আনিছুল ইসলামের মাধ্যমে ফারুক আহমদকে ডেকে আনেন। পরে সেখানে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থিতা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন খান পরিবারের ছোট সন্তান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। কিন্তু ফারুক আহমেদ তাতে রাজি না হয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে শৌচাগারে যান।
শৌচাগার থেকে ফেরার পথে সাংসদের অপর সহযোগী কবির হোসেন পিস্তল দিয়ে ফারুক আহমদকে গুলি করেন। এরপর সাংসদ আমানুরের নির্দেশে আনিছুল, মোহাম্মদ আলী, আবদুল হক, সমীর ও কবীর তার মৃতদেহ তার বাসার সামনে ফেলে আসেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।










