প্রায় দুই বছর আগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে যে বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়েছিল, একদল মানুষরূপী হায়েনা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে সেই গৃহবধূকে যেভাবে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা দিয়েছিল; তাদের শাস্তি হয়েছে। সেই ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ দোষী ১৩ জনকে মঙ্গলবার ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানাও করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে।
এসব সন্ত্রাসীর বিচার হবে, সাজা হবে- তা সেই ঘটনা প্রকাশের আগে কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। বিশেষ করে ভুক্তভোগী সেই নারী এবং তার পরিবার তো ধরেই নিয়েছিল- ‘দেশে আইন নেই, বিচার নেই’। কারণ সেই সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালী, নিজেদের কাছে থাকা অর্থ-বিত্ত দিয়ে পুরো প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে। একই ধারণা ছিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার সেই একলাশপুর গ্রামের মানুষেরও। তাই তো এমন ঘটনার পরও তা নিয়ে দিনের পর দিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। হয়তো তা আড়ালেই থাকতো, যদি না সেই দুর্বৃত্তরা নিজ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করতো।
আমরা জানি, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বীভৎস সেই ঘটনা ঘটে। দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার তার ১৪/১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে জোর করে ঘটনার শিকার গৃহবধূর ঘরে ঢোকে। তারপর তাকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং পুরো ঘটনা ভিডিও করে রাখে। ৩২ দিন পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় দেলোয়ার বাহিনী। তারপরই প্রকাশ্যে আসে সেই বীৎসতা। তা দেখে পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। নিন্দা-প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করে।
তবে নোয়াখালীর এই ঘটনা সেদিন প্রমাণ করেছিল, একজন নারী কতটা অসহায়। কতটা ভয়ের আবহ সেই সন্ত্রাসীরা পুরো গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ এদের বিরুদ্ধে যাদের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, সেই প্রশাসন জানতেই পারেনি (?) সেখানে কি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে!
আমরা জানি না, এই ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনের কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? যারা ওই নারীকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, ঘটনা ঠেকাতে পারেনি- তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন ছিল। তাহলে বড় এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতো এই ঘটনার বিচার।
আমরা মনে করি, নারীর প্রতি যে কোনো অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবেই এই সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। একলাশপুর সেইটাই প্রমাণ করেছে।








