কয়েক মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ মানুষদের মধ্যে কমপক্ষে ৬৩ জনের বিষয়ে জঙ্গি সন্দেহে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। এদের বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষিত, প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন এবং সময় সময় পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগে গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
পর পর রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, জঙ্গি খাতায় নাম লেখানো তরুণরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। এদের বিষয়ে তদন্তে নেমে তাদের পাশাপাশি কারা ওই তরুণদের বিপথে নিয়ে গেছে সেটা জানার চেষ্টাও চলছে।
এখন পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা ১০ জঙ্গির যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাদের একজন জুন্নুন শিকদার। দেশ সেরা একটি স্কুল থেকে এসএসসি এবং একটি নামকরা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে লেখাপড়া করেছে দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। জুন্নুন প্রায় ৮ মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করছে তার পরিবার।
জুন্নুরের মা বলেন, প্রায় আটমাস ধরে কোনো যোগযোগ নেই। ওর বাবার সঙ্গে অনেক আগে একদিন কথা হয়েছিল এরপর আর কোনো খবর পাইনি ওর। আমাদের কাছে বলেছিল, মালয়েশিয়ায় পড়াশুনা করবে। ওখানে গিয়ে দু’একদিন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেনি।
নিখোঁজ হওয়ার আগে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জেল খেটে জামিনে ছিল জুন্নুন। এর আগে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বাবার সঙ্গে ঝগড়াও করে সে। পরে একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যায় বলে দাবি করে জুন্নুনের মা বলেন, আমরা মালয়েশিয়ায় পাঠাতে চাইনি। ও আমাদের না বলেই চলে গেছে।
ছেলের এমন খবর শুনে আমি অন্যরকম হয়ে গেছি। আমাদের একমাত্র ছেলে, কি সুন্দর দেখতে এমন ছেলে জঙ্গি হবে কখনো ভাবতেও পারিনি। সর্বশেষ প্রায় আড়াই মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে সে বাবার কাছে ফোন করেছিল বলে দাবি করেছে জুন্নুনের পরিবার।







