আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়। এ রায়কে আইনের শাসনের জন্য ঐতিহাসিক বলছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিল সারা বিশ্বকে। ১৪ বছরের বেশি সময় পর ওই মামলার রায় হলে পাশের দেশ ভারত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে রায়ের সংবাদটি কাভার করেছে।
বিবিসি বাংলা, বিবিসি ওয়ার্ল্ড থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন পোস্ট, আল জাজিরা সহ সব গণমাধ্যমেই রয়েছে সংবাদটি।
দেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলছেন, এ হামলা হয়েছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে। যা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বর্বরোচিত ঘটনা।
দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা এই ঘটনার কোনো তদন্ত করতে দেয়নি,বিচার তো দুরের কথা। বরং তারা এই ঘটনাকে উল্টোমুখে প্রচার চালিয়ে এর সব দায় আওয়ামী রীগের ওপর দেয়ার চেষ্টা করেছিল। শুধু আওয়ামী লীগ না, একইসঙ্গে আমাদের প্রতিবেশি ভারত জরানোর চেষ্টা করা হয়েছেলি। তারা এতো সব মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল, যা অদ্ভূত কল্পকাহিনীকে ছাড়িয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, একটা দেশের সরকার সে যদি এরকম একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা যেখানে দেশের প্রধান দলের নেত্রীর জীবননাশের শঙ্কা, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার চেষ্টা ছিল, সেটাকে যদি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়, ঘটনাকে উল্টোমুখে প্রবাহিত করা হয়, সেটার যদি সুষ্ঠু তদন্ত না হয়,সেটার যদি বিচারের কোন চেষ্টা না হয়, এরচেয়ে দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর ঘটতে পারে না।
মতিউর রহমান বলেন, এই দায় বিএনপিকে বহন করতে হবে, এটা একটা কলঙ্ক, এটা একটা অন্যায়, এটা একটা ভয়ঙ্কর রকমের শাসক গোষ্ঠীর বা শ্রেনী বা সরকারের জন্য কখনই এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ঘটনার ১৫ বছর পর বিচার হয়েছে, ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে,আরো অনেককে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এটার বিচার হওয়া দরকার ছিল, উচিত ছিল, সেটা হয়েছে। সেটাতে আমরা সন্তোস প্রকাশ করি। আর যদি তারপরও কারো কোন বক্তব্য থেকে থাকে তারা হাইকোর্টে যাবেন, আপিল কোর্টে যাবেন, তারা তাদের আইনি যুক্তি তর্ক-বিতর্ক করবেন।
প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, তবে সন্তুষ্টির বিষয় এই, এরকম একটি ভয়ঙ্কর ঘটনার বিচার হওয়া উচিত ছিল। বিলম্ব হয়েছে এবং এটা আমাদের দেশের রাজনীতির উত্থান-পতন ঘটানোর মধ্য দিয়ে বিলম্ব হয়েছে, সেটা দুঃখজনক।
এমন ঘটনা যেন বাংলাদেশে আর কোন দিন না ঘটে তার নজির স্থাপন করতে রায়ের দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করা হয়েছে গণমাধ্যমে।
বিস্তারিত ভিডিও রিপোর্টে:






