এফবিআই-এর সাবেক পরিচালক জেমস কোমিকে ‘অবাধ্য’ বলে উল্লেখ করে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, তিনি রীতি ও আচার ভাঙলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু করেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত চলার সময় হঠাৎ করেই ২০১৭ সালের ৯ মে জেমস কোমিকে এফবিআই প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অপসারিত হওয়ার পর থেকে এর পেছনেও ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ সংযোগকেই দায়ী করেছিলেন কোমি।
ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনেরও অভিযোগ, কোমির কার্যক্রমেই তাকে ট্রাম্পের কাছে হারতে হয়েছিল।
বিচার বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল মাইকেল হোরোউতিজ বলেন, হিলারী ক্লিনটনের ইমেইল ফাঁসের ক্ষেত্রে এফবিআই-এর রীতি ও আচার ভঙ্গ করেছেন কোমি।
এ নিয়ে প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কোমি এফবিআইয়ের কার্যক্রমে ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন।
এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে বলেন, তারা প্রতিবেদনের প্রাপ্ত তথ্য মেনে নিয়েছেন। একইসঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে কোমি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেননি বা এফবিআইয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয় এমন কিছুও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ইমেইল জনগণের কাছে উন্মুক্ত করায় কোমির সমালোচনা করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে কোমি এগুলো প্রকাশ করে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
কোমির দাবি ছিল, তিনি স্বচ্ছভাবেই কাজটি করেছেন কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। তবে তার এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিচার মন্ত্রণালয়।
ইন্সপেক্টর জেনারেল বলেন, কোমির কার্যক্রম হয়তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা নয়। তবে এটা নিশ্চিতভাবেই এফবিআই রীতি পরিপন্থী। এটা সংস্থাটির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
৫০০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোমি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারলে লোরেতা লিঞ্চের মধ্যে কোনও সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া রুশ সংযোগের তদন্তে থাকা হোয়াইট হাউসের স্পেশাল কাউন্সিল রবার্ট মুলারের সঙ্গে কাজ করা দুজন এফবিআই কর্মকর্তার মেসেজের বিষয়েও বলা হয়।
এফবিআই পরিচালক রে বলেন, প্রতিবেদনে কাউকে দোষী পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







