চট্টগ্রাম থেকে: ঢাকার ব্যাটসম্যান কেভন কুপার রান আউট হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। কুমিল্লার ব্রাভোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে রান আউট তিনি। ম্যাচটা তখন খানিকটা ঝুঁকে ভিক্টোরিয়ান্সদের দিকেই। বোলিং দলের উল্লাসে ফেটে পড়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আউট কুপারকে ফিরিয়ে এনে আরেকদফা ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিলেন কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম। ম্যাচ শেষে যে ঘটনাকে আখ্যায়িত করা হল ‘তামিমের মহানুভবতা’ বলে।
‘তামিমের মহানুভবতা’র এই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে বুধবার, চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যে ম্যাচে লড়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস ও তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
ঢাকার ইনিংসের তখন ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বল। জয়ের জন্য ঢাকার রান প্রয়োজন ১৬ বলে ৪৪। এমন সময় রান নেয়ার চেষ্টায় পড়িমরি এক ছুট দেয়া ব্যাটসম্যান কুপারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বোলার ডোয়াইন ব্রাভোর। ছিটকে পড়েন ব্রাভো! ক্রিজের মাঝখানে থমকে যান কুপার, রান নেয়ার চেষ্টা না করেই। সেই সুযোগে উইকেট ভেঙ্গে দেন কুমিল্লার উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
স্বাভাবিকভাবে এটি রান আউট। কুপার তাই হাঁটা ধরেন সাজঘরের দিকে। ইচ্ছাকৃত সংঘর্ষ নয়। আউটই। কিন্তু তামিম ছুটে গিয়ে কুপারকে থামালেন। কুপার প্রথমে শুনতে পারেননি। তামিম এগিয়ে যান ডাগআউটের দিকে। ভিক্টোরিয়ান্স কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও আম্পায়ারের সঙ্গে আলাপ করে কুপারকে উইকেটে ফিরিয়ে দেখান উদারতা। শূন্য রানে ফেরার উপক্রম হয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ বলে ৯ রানে অপরাজিত কুপার। ম্যাচটা অবশ্য জেতাতে পারেননি। তামিমরা জেতে ১২ রানে।
ম্যাচ শেষে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আলোচনায় তাই কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম আর তার স্পোর্টসম্যানশিপ। সংবাদ সম্মেলনে সেটা বলে গেলেন কুমিল্লার কোচ সালাউদ্দিন আহমেদও, ‘আমরা চাইলে কুপারকে ফিরিয়ে নাও আনতে পারতাম। এক্ষেত্রে তামিম গ্রেট স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়েছে। এটা তামিমের মহানুভবতা। এটা ক্রিকেটে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচনার কেন্দ্রে যে তামিম, তিনি কি বলছেন? ‘ক্রিকেটকে আমরা বলি ভদ্রলোকের খেলা। আমাকে সৎ থাকতেই হবে। আমি সে চেষ্টাই করেছি। দল হারার অবস্থায় থাকলেও একই কাজ করতাম।’ উদার তামিমের সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি।
দল হারেনি। তবে দ্বিতীয় জীবন পেয়ে ভিক্টোরিয়ান্সদের খানিকটা ভড়কেই দিয়েছিলেন কুপার। সেই ওভারের শেষ বলেই ওভার বাউন্ডারি। পরের ওভারের প্রথম তিন বলে আরেক ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলাম টানা চার মেরে দেন হাসান আলীকে। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা সেখানেই সমাপ্তি। জয় হয়েছে তামিমদেরই। জিতেছে ক্রিকেটও।








