কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী হত্যার ৫ বছর আজ। দীর্ঘ সময় পেড়িয়ে গেলেও এখনো সেই হত্যার ন্যায়বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার।
ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে পরপর দুবার ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম স্বাক্ষী দিয়ে আসলেও অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
এরপর ন্যায়বিচারের আশায় ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুম এর (মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ) সহায়তা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন ফেলানীর বাবা। ফলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এখনো ঝুলে আছে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী। কাঁটাতারের বেড়ায় দীর্ঘ ৪ ঘন্টা লাশ ঝুলে থাকার ছবি দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে প্রচার হলে সমালোচনার ঝড় উঠে। নড়ে-চড়ে বসে ভারত-বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
ফেলানী হত্যার আড়াই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারে বিশেষ আদালতে বিচার কাজ শুরু করে বিএসএফ। শুনানী শেষে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় বিএসএফ’র আদালত।
এতে আবারো সমালোচনার ঝড় উঠে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুন:বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে একই আদালত। ২০১৪ সালের ২ জুলাই পুনরায় অমিয় ঘোষের বেকসুর খালাসের রায় বহাল রাখে আদালত।
বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার না পেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মাসুমের সহযোগীতায় রিট আবেদন করেছেন ফেলানীর বাবা। ভারতের সর্বোচ্চ এ আদালতে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন তার পরিবার।
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকার মিলে আমার ফেলানী হত্যার বিচারটা করুক। সেটাই দেখতে চাই।
তার বাবা নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেহেতু মামলাটি নিয়ে আলোচনা চলছে, আশা করি আমি ন্যায় বিচার পাবো।
রিট আবেদনের ভিত্তিতে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার শুনানীর তারিখ নির্ধারণ থাকলেও ব্রেঞ্চ পুন:র্গঠনের কারণে আবারো পিছিয়ে গেছে বিচারিক কার্যক্রম। বিলম্ব হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এ প্রত্যাশা ফেলানীর বাবার আইন সহায়তাকারীর।
কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, যতো দ্রুত এই মামলার রিট নিষ্পত্তি হবে ততো দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়ার দ্বার উন্মোচিত হবে।
আলোচিত ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে বন্ধ হবে সীমান্ত হত্যা, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।






