বুক চিতিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন, তাতে চোখ জুড়ানো বাউন্ডারির মিশেল। আশা জাগানিয়া শুরুর পর হঠাৎ ফুটো প্রত্যাশার বেলুন। তিন বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে লিটন দাসের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে অসংখ্যবার। ইনিংস বড় করতে না পারাকে ব্যর্থতা মেনে শোনালেন নতুন উপলব্ধির কথা।
‘যারা বড় বড় ক্রিকেটার তারা ভালো শুরু করতে পারলে ইনিংস লম্বা করে। এখনও বড়দের কাতারে যেতে পারিনি; তাই এখন বড় ইনিংস হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার, যেন বড় কিছু করতে পারি।’
দুই সিরিজ পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন লিটন। এশিয়া কাপের বড় মঞ্চে ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী হবেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
এক যুগের পরিক্রমায় তামিমের যোগ্য সঙ্গী পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট। এক ডজনেরও বেশি ওপেনারকে দিয়ে চেষ্টা হয়েছে কিন্তু থিতু হতে পারেননি কেউই। নিকট অতীতে ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার ও এনামুল হক বিজয় চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ২২ গজে তামিমের ছায়া হয়েই থেকেছেন তারা।
আবার তাই লিটনের কাছেই ফিরে গেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এ স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ফের প্রত্যাশা জাগিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩২ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে। ফ্লোরিডায় সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যবধান গড়েছিল এ তরুণের ব্যাটে ভর করেই।

টাইগারদের এশিয়া কাপ স্কোয়াডে নেই তৃতীয় ওপেনার। তাই সব ম্যাচ খেলার অলিখিত লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছেন লিটন। বড় ইনিংস খেলে তামিমের সঙ্গী হিসেবে থিতু হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মারকুটে এ ব্যাটসম্যান।
‘এটি আসলে একটি ভালো সুযোগ। আমি অনেক দিন থেকে ওয়ানডে দলের বাইরে। যদি সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই ভালো করার চেষ্টা করবো।’
‘সামনে আমাদের এশিয়া কাপের দুটি ম্যাচ আছে। এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যদি সুযোগ থাকে ভালো করার অবশ্যই চেষ্টা করবো।’
সেই ভালোটি কেমন? লিটন বলেন, ‘এখন পারফর্ম ছাড়া তো আর ভালো কিছু নেই। আপনারা রান চান, আমিও রান চাই।’
বাংলাদেশের হয়ে ১২টি ওয়ানডে খেলা লিটনের সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৬ রানের। ২০১৫ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ইনিংসটি। সেটিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি পরের ১০ ম্যাচেও!
বড় ইনিংস উপহার দেয়ার তাগিদ আছে; আছে চেষ্টাও। তবে কেন হচ্ছে না, সেটি ধরতে পারছেন না লিটন। অনুশীলনে ব্যাটিং পরামর্শক নিল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে নিয়মিত আলাপ করতে দেখা যাচ্ছে তাকে। কী নিয়ে এত আলোচনা? ‘ব্যাটিংয়ের কিছু টেকনিক নিয়ে তার (ম্যাকেঞ্জি) সাথে কথা হয়েছে। কীভাবে ভালো কিছু করা যায় সেটি নিয়েই… আরকি।’







