বিপিএলের ম্যাচে সাব্বির রহমানকে ব্যাটের খোঁচা দেওয়ায় এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন রংপুর রাইডার্সের আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ শেহজাদ। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণে সাব্বিরকেও জরিমানা গুণতে হচ্ছে। আরও জরিমানা করা হয়েছে রংপুরের অলরাউন্ডার লিয়াম ডসনকে।
রংপুরের ইনিংসের চতুর্থ আর মোহাম্মদ সামির দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে স্যামির হাতে স্লিপে ক্যাচ হন শেহজাদ। ১২ রানে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় তাকে। তবে যাওয়ার সময় একটা কান্ড করে বসেন তিনি। আলতো করে সাব্বিরের কনুইতে ব্যাট দিয়ে টোকা দেন। পাকা অভিনেতার মতো সাব্বির কনুই চেপে ধরে বসে পড়েন। এরপর ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে পুরো রাজশাহী দল ছুটে যান রংপুর রাইডার্সের ড্রেসিংরুমের দিকে। শেহজাদ একবারও পেছন ফিরে না তাকিয়ে ঢুকে পড়েন সাজঘরে। আম্পায়ার এসে স্যামি এবং তার দলবলকে খেলায় ফেরান। এরপরই টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে সেই ব্যাট দিয়ে সাব্বিরের ডান হাতের কনুইতে টোকা দেয়ার দৃশ্য।
এ ঘটনায় শেহজাদ এবং সাব্বির দুইজনকেই ম্যাচ রেফারি ডেকেছিলেন। দুজনই নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। এতে বড় শাস্তিই পেতে হলো রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদকে। এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে তাকে। কারণ তিনি আউট হয়ে ফেরার সময় ব্যাট দিয়ে সাব্বিরকে আঘাত করেছেন।
ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশীদ রাহুল জানিয়েছেন, ‘আম্পায়ারদের রিপোর্ট এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাঠে কথা কাটাকাটি করায় ৩০ শতাংশ জরিমানা করেছি। আর ব্যাট দিয়ে আঘাত করায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।’
রাহুল জানান, ‘পাশাপাশি সাব্বির কথার লড়াইয়ে নামায় ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি রংপুরের অধিনায়ক লিয়াম ডসনকে ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। কারণ আউট দেয়ার পরেও সে ক্রিজে দাঁড়িয়েছিলো। মাথা নিচের দিকে ঝাঁকিয়ে আম্পায়রের সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানিয়েছে। এটা ক্রিকেটের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তাই তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।’
ম্যাচশেষে শেহজাদ এবং সাব্বিরকে পাওয়া যায়নি। তবে রংপুরের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির কাছে ঘটনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘প্রথম ঘটনায় আমি বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করছিলাম। তাই জানিনা কী হয়েছে। তবে পরের ঘটনাটা আমি টিভি রিপ্লেতে দেখেছি। আমার মনে হয় শেহজাদ কিছু করেনি। এখন সে (সাব্বির) যদি অভিনয় করে, তাহলে আমাদের আর কী করার আছে?’
ঠিক একই প্রশ্ন করা হয়েছিলো রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিকে। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই সেখানে কিছু হয়েছে। আমি তখন তাদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম কারণ শেহজাদ আমার বন্ধু। আমরা পিএসএলে এক সঙ্গে খেলেছি। ঘটনাটা জানার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলাম। তবে অবশ্যই আমি জানার চেষ্টা করব কি হয়েছিল। আমার খেলোয়াড়কে কেউ আঘাত করলে অবশ্যই আমি চুপ থাকব না।’







