রাত পেরিয়ে ভোর, এরপর সকাল। সকাল পেরিয়ে দুপুর, দুপুরের পরও চলতে থাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে শ্রদ্ধার মিছিল। দুপুরের দিকে বিভিন্ন সংগঠনের তুলনায় ব্যক্তি পর্যায়ের শ্রদ্ধা নিবেদন চোখে পড়ছে বেশি। শহীদ মিনার তখন বর্ণ-বর্ণে-বর্ণালী সাজে নিজেই এক ফুলের বাগান। সাদা- কালো পোশাকে বাবা- মায়ের হাত ধরে আসা শিশুরা পুষ্পার্ঘ্যে সেই বাগানকে আরো রঙিন করেছে।
মাদ্রাসাপড়ুয়া বিলালও এসেছিল বাবার হাত ধরে। বিলালের কপালে বর্ণমালার ছাপ দেয়া কাপড়। ১১ বছর বয়সী বিলালের বাবা রিপন হোসেন বলেন, মাতৃভাষার জন্য শহীদদের প্রতি ছেলেকে কিছুটা ধারণা দিতেই ওকে আজ শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছি।
‘একজন বাবা হিসেবে এটাতো করাই যায়, অন্তত একটা দিনে।’
রাতের তুলনায় দুপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল ছিল। তবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যতক্ষণ ভীড় থাকবে ততক্ষণই পুলিশ প্রহরা থাকবে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম।
বেলা দেড়টার দিকে কালো পাঞ্জাবি পরা ওই কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ।
তারও আগে ভীড়ের কারণে শহীদ মিনারে যেতে পারেননি রিয়া চাকমা ও লালরাম কিম বম। বাংলা ভাষার এই দিনে নিজেদের মায়ের ভাষার যথাযথ সম্মান নিশ্চিতের দাবি তাদের।
রিয়া বলেন, ‘এখন চাকমা ভাষাতে প্রাথমিকের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক পেয়েছে। আমাদের তুলনায় তারা আসলেই ভাগ্যবান।’
তবে অপেক্ষাকৃত কম লোকসংখ্যার বম সম্প্রদায়ের কিম বলেন: এই ক্ষেত্রে আমরা চাকমাদের তুলনায় পিছিয়ে। আমাদের এলাকায় কেবল চার্চগুলোতেই আমরা নিজেদের মায়ের ভাষার প্রাথমিক শিক্ষাটা পেয়ে আসছি।
একুশের দ্বিপ্রহরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল উন্মুক্ত না ছিল না। তারপরও কিছুটা রোদের তাপ উপেক্ষা করে শহীদ মিনার ও আশেপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি মানববলয় তৈরি করে শহীদ মিনারে শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন শেষে হলে ফিরছিল বিএনসিসির ক্যাডেট মেহেদী, জিলানী, বাপ্পি, শান্তরা। প্রথম বর্ষের এই ক্যাডেটরা ফুল দিয়ে শহীদ বেদি সাজিয়ে কর্মক্লান্তিতেও আনন্দিত বলে জানালেন।
তারা ফিরে গেলেও তখনও শহীদ মিনারে ছিল পুলিশ প্রহর। আর শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে জনতার যাত্রা তখন বইমেলায়।







