আয়শার বয়স ১৫। এ বয়সে তার হই-হুল্লোড়ে মেতে থাকার কথা। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে তার কোনো আশাই পূরণ হচ্ছে না। হাঁটতে-চলতে পারে না সে। মায়ের সাথে স্কুলে যায় আর সারাদিন বেঞ্জে বসে থাকে। ছুটি হলে মায়ের সাথে আবার বাড়ি ফিরে যেতে হয় ভ্যানে করে ।
আয়শার কথা শুনে তার কষ্টটা বোঝা যায়—‘সবাই হইচই করে স্কুলে যায়। আমি শুধু দেখি। ইচ্ছে হয় ওদের সঙ্গে আমিও যাই। কিন্তু সে ইচ্ছা আমার পূরণ হওয়ার নয়।
আয়শা বলেন ‘আমার বেশিভাগ সময় স্কুলে যাওয়া হয় না। কারণ টাকা লাগে প্রতিদিন ৫০ টাকা। কেউ যদি আমাকে একটা ইলেক্ট্রিক হুইলচেয়ার দিত তাহলে আমি নিজে নিজে স্কুলে যেতাম।’
কথা হয় আয়শোর স্কুল খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরিফুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, আয়শা সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে। ও লেখাপড়ায় খুব ভাল। ওকে যদি কোনো ভাল প্রতিষ্ঠান সাহায্য করে তাহলে সে একদিন সবার মুখ উজ্জল করবে।
আয়শা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের রুপনাই দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. আব্দুল গফুর শ্রমিক। তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে আয়শা ছোট। মা সেলিনা বেগম সারা দিন মেয়েকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। স্কুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা সবই করতে হয় তাকে। বাবার সামান্য আয় দিয়েই চলে সংসার।
আয়েশার মা সেলিনা বেগম বলেন, জন্ম থেকেই নাসিমার(আয়েশা) দুই পা বাঁকা। বিশেষ প্রয়োজনে অল্প কিছুদূর যেতে পারে। মেয়ের সব কাজ তাকেই করতে হয়। কিন্তু এখন তার আর শরীরে কুলায় না।
আয়শার বাবা আব্দুল গফুর বলেন, মেয়ের নামে প্রতিবন্ধী কার্ড করার জন্য অনেক জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু সবাই শুধু টাকা চায়। সামান্য আয় দিয়ে চলে সংসার। আমার বাড়ী যমুনানদীতে ভেঙ্গে যাওয়ার পর শ্বশুড় বাড়ীর জায়গায় একটা ছোট বাংলা ঘরে থাকি। অভাবের সংসারে মেয়ের জন্য বাড়তি কিছু করাটা কঠিন।
গফুর তারপরও চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক সময় টাকা না থাকলে আয়শার স্কুলে যাওয়া হয় না। কারণ প্রতিদিন স্কুল যেতে ৫০ টাকা লাগে ।
আয়শা বলেন বলে, ‘মা আমার সব কাজ করে দেন। যদি একটি ইলেক্ট্রিক হুইলচেয়ার পেতাম, তাহলে ওই চেয়ারে বসে একা একা স্কুলে যেতে পারতাম। নিজের কাজ নিজে করতে পারতাম। জানি না, আমার এ আশা পূরণ হবে কি না।
আয়শাকে সাহায্য করতে যোগাযোগ
আয়শার বাবা
01822-456904 বিকাস পারসোনাল
ব্যাংক একাউন্ট
Most. Aosha sigdika
A/C 6468
Janata Bank
Khukni,Shahzadpur, Sirajgonj







