কথিত নিরাপত্তার অজুহাতে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে পরিবহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে তারা।
রাজধানী
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। শুক্রবারের পরে শনিবার সকাল থেকেও বাস চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ করে তারা। এতে পুরো রাজধানীতে তৈরি হয়েছে গণপরিবহন সংকট। চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা। তবে শুক্রবার রাতে বেশ কিছু রুটে ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস।
যশোর
দ্বিতীয় দিনের মতো যশোরের ১৮টি রুটে সকল ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে যশোর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন। ঢাকাসহ সারাদেশে গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও রাস্তায় নিরাপত্তা না থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে বাস শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে।
বাস চলাচল বন্ধ করার কারণে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বাড়ি থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। শ্রমিক নেতারা জানান, আমাদের গাড়ি চালাতে কোন সমস্যা নেই তবে রাস্তায় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তায় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকায় আমরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছি।
সিলেট
সারাদেশের মতো সিলেটেও দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে ঢাকাসহ সিলেটের আশপাশের জেলায় এবং উপজেলাগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা। বাস মালিকদের দাবি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা বাস চালাবেন না।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামীসহ সকল রুটে যাত্রীবাহি পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস মালিকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের অনিহা ও নিরাপত্তার স্বার্থে কুষ্টিয়ার সকল রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জানান, শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশে সকল রূটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও
নিরাপত্তার দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে অনিদিষ্টকালের জন্য অঘোষিত বাস পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে শ্রমিক ও মালিকরা। এতে দুভোর্গে পড়েছে যাত্রীরা।
শুক্রবার ভোর থেকে এ জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহনও চলাচল করতে দেখা যায়নি দুই দিন ধরে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া ও রাজীব।
ওই সময় কুর্মিটোলা ফ্লাইওভারের কাছে শিক্ষার্থীরা বাসের জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলে। দুটি বাসের রেষারেষিতে একটি বাস শিক্ষার্থীদের উপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়।
এ ঘটনার পর ফুঁসে ওঠে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের জন্য ৯ দফা দাবিতে রাজপথে নামে তারা।







