টানা দুই হারে সিরিজ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ দল। আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা নিয়ে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে নামবে সাকিবরা। শেষ ম্যাচ জিতে যদি কিছুটা হলেও মান রক্ষা করা যায়! নাজমুল হাসান পাপন অবশ্য সেসব নিয়ে ভাবছেন না। বিসিবি সভাপতির কাছে সিরিজ হারই বড় বিষয়।
‘একটা হারা, তিনটা হারা ইস্যু না। সিরিজ হেরে গেছে। হারা উচিত না। হারলে আমরা তো কিছু বলি না। আগেও আমরা হেরেছি। হারের ধরণটা আমাদের ভালো লাগেনি। পরিকল্পনায় সমস্যা থাকতে পারে, প্রয়োগে সমস্যা থাকতে পারে। সেটা ভিন্ন ব্যাপার। সেটা জানি না। তবে তারা সমস্যায় আছে এটা বুঝতে পারছি।’
দুই ম্যাচে সাত উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন রশিদ খান। এই লেগির বল যেভাবে খেলেছেন ব্যাটসম্যানরা, সেটাতেও হিসাব মেলাতে পারছেন না বিসিবি সভাপতি।
‘আফগানিস্তানের বোলিং হতে পারে খুব ভালো। রশিদ খান বিশ্বমানের। কেউ অস্বীকার করে না। তারপরও ১৫০-৬০ হবে না, এটা কখনো মনে হয়নি। যখনই মনে হচ্ছে আমরা সেট হচ্ছি, বড় স্কোরের দিকে যাচ্ছি, তখনই উইকেট থ্রো করে দিয়ে আসছি। সিনিয়র প্লেয়াররা যেভাবে আউট হয়েছে। রশিদ খানকে আমরা মনে করছি, ওরাও মনে করছে। তাকে ছয় মারতে গিয়ে আউট হওয়া, মানে এইগুলা কোনোভাবে মেলে না। মনে হচ্ছে তাদের কোনো সমস্যা নিশ্চয়ই হচ্ছে। আমরা যে দল চিনি, সেই দলের মতো না। নিশ্চয়ই সমস্যা আছে।’
‘আমি ওদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা সবাই বোলিংকে দোষারোপ করছে। আমি পার্সোনালি মনে করি, ১২০/২৫/৩০ রান করে এখন কারো সঙ্গে জেতা অস্বাভাবিক। ১৬০ মিনিমাম হতে হয়। ১৮০-র আগে তো জেতাই যায় না। এবং খুব বাজে শট খেলেছে, রিস্ক নিতে গিয়ে আউট হয়েছে সিনিয়র প্লেয়াররা। এটাই আমার কাছে খারাপ লাগছে।’ -যোগ করেন নাজমুল হাসান।
নাজমুল হাসানের কাছে সবচেয়ে হতাশার, নিজেদের চেনা দলটাকে বড্ড অচেনা লাগছে ভারতের মাটিতে।
‘আসলে এটা খুব হতাশাজনক। নিধাস ট্রফির আগে বাংলাদেশে যে সিরিজটা (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) হল, একেবারে তার পুনরাবৃত্তি দেখছি। একটা জিনিস হতে পারে। যেহেতু একদম কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলা, রাগী, সিদ্ধান্ত একা নিজে নিতো আগে(হাথুরুহিংহে); এইরকম একটা পরিবেশ থেকে হুট করে তারা ফ্রি একটা পরিবেশে এসেছে; তাতে হয়ত(সমস্যা) হতেও পারে। কারণ আমি জানি না। শ্রীলঙ্কাতে তো আমি নিধাস ট্রফিতে ওদের সঙ্গে ছিলাম এবং ওরা ভালোই খেলেছে। আমি বলছি না যে খুব ভালো খেলেছে, বাট ভালো খেলেছে। সেখানে হারাতে কিন্তু কেউ তাদের কিছু বলেনি। কিন্তু এখানে কেমন যেন লাগছে। বাংলাদেশ দল মনেই হচ্ছে না, আমার কাছে মনেই হচ্ছে না।’
টি-টুয়েন্টি দল নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে কিনা- এমন প্রশ্নে নাজমুল হাসান বললেন, ‘নতুন করে ভাবার কিছু নেই। ওদের(আফগানিস্তান) ভালো বোলার আছে। ভালো বোলার থাকলেই টিম জেতে না। উদাহরণ দেই, সানরাইজার্স হায়দরাবাদে রশিদ খান ছিল, সাকিবের মত এক নম্বর অলরাউন্ডারও ছিল। জিততে পারেনি(আইপিএল ফাইনাল)।’
‘ভালো বোলার থাকবে। একটা দলে একটা/দুটো ভালো বোলার থাকবে। এই জন্য হেরে যাবে? একজন প্লেয়ারের খেলা না তো এটা। দুর্বল জায়গা ছিল। টি-টুয়েন্টিতে আমরা এমনিতেই পেছনে। খেলার পরিকল্পনাটা বুঝতে পারছি না আমিও। ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত আমি। বোলিং ঠিক আছে। ওরা যদি দুইশো করত, বুঝতাম বোলিংয়ে সমস্যা আছে। ১৮০-ও তো করতে পারেনি।’ বিসিবি সভাপতির সোজাসাপ্টা বিশ্লেষণ।








