ঋণের সুদহার না বাড়াতে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতে ঋণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নতুনভাবে খেলাপি ঋণ সৃষ্টির ঝুঁকি এড়াতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বুধবার ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছরে ঋণের সুদহার একবারের বেশি বাড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে সুদহার বাড়ালে গ্রাহককে ৩ মাস আগে জানাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) সার্কুলারে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আর্থিক বাজার সুদহারে সম্প্রতি বৃদ্ধির সূত্রে নতুন ঋণ মঞ্জুরি ছাড়াও বিদ্যমান ব্যাংক ঋণ হিসাবগুলোতেও আকস্মিক অযৌক্তিক মাত্রায় উচ্চতর সুদহার নির্ধারণের কিছু দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে ঋণ পরিশোধে সামর্থ্যের ও আর্থিক সংগতির ওপর গ্রহীতাদের ওপর অনভিপ্রেত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি এর ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, কোনো ঋণের মঞ্জুরিপত্রে সুদহার অপরিবর্তনশীল উল্লেখ থাকলে ওই ঋণের সুদহারে সংশ্লিষ্ট ঋণের মেয়াদকালে ঊর্ধ্বমুখী কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। শুধু ঋণের মঞ্জুরিপত্রে সুদহার পরিবর্তনশীল উল্লেখ থাকলেই ওই ঋণের সুদহারে বিশেষ কিছু নিয়মে সংশোধন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের সুদহার বছরে একবারের বেশি বাড়ানো যাবে না। ঋণের সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে কমপক্ষে তিন মাস আগে নোটিশ দিতে হবে। গ্রাহককে না জানিয়ে কোনো ঋণের সুদহার বৃদ্ধি করা যাবে না। মেয়াদি ঋণের বেলায় প্রতিবার অনধিক শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং চলতি মূলধন ও অন্যান্য ঋণের বেলায় প্রতিবার অনধিক ১ শতাংশ মাত্রায় পরিমিত রাখতে হবে। নতুন ঋণ মঞ্জুরির সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিআরপিডি কর্তৃক ইতোপূর্বে ইস্যুকৃত পরিপত্রগুলোর নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেয়। এরপর ঋণের সুদহার কমাতে ব্যাংক মালিকরা বেশকিছু সুবিধা নিলেও কমছে না ঋণের সুদহার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঋণের সুদহার কমাতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেন। অবশেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের সুদহার কমাতে এই নির্দেশ দেয়া হলো।








