কানাডার অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু টরোন্টোসহ নানান শহরে হাজার হাজার মানুষের ভ্যাকসিনবিরোধী আন্দোলনে আরও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।
ফ্রিডম কনভয় ট্রাক চালকদের অটোয়ায় শুরু করা ভ্যাকসিনবিরোধী এই আন্দোলন বর্তমানে কানাডার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং ট্রুডো সরকারবিরোধিতার দিকে এগুচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টরোন্টোতে আন্দোলনকারীদের একজন রবার্ট। তিনি বলেন, আমরা সকলেই এই স্বাস্থ্যগত বিধিনিষেধ মানতে গিয়ে এবং কারাগারের থাকার মতো জীবনযাপন করতে করতে অসুস্থ এবং ক্লান্ত। আমরা আমাদের শরীরে ভ্যাকসিন নামের বিষ প্রবেশ না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই।
এরই মধ্যে আন্দোলনকারীরা অটোয়া ডাউনটাউন অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের অনেকেই নাৎসি পতাকা বহন করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার ট্রুডো সরকারের পতন চায়।
দেশটির পরিবহণমন্ত্রী ওমর আলঘাব্রা অটোয়ার ট্রাক চালকদের দাবিকে সরকার গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জানিয়ে, তাদেরকে বাড়ি ফিরে গিয়ে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সাথে যোগযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
অটোয়ায় পুলিশ ৪ জনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু সহানুভূতিশীলদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছে, সেই সহায়তার উপর নির্ভর করেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া এক ভিডিওতে একজন আন্দোলনকারীকে ট্রাম্পের পতাকা নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাক চালকদের সমর্থন দিয়ে বলে, উন্মাদ ট্রুডোর কোভিড ম্যানডেট কানাডাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
গোফান্ডমি’র মাধ্যমেও আন্দোলনকারীরা তহবিল সংগ্রহ করছেন। এমনকি বিলিওনিয়ার এলন মাস্কও তাদেরকে সাহায্য করছেন।
প্রায় ৫ হাজার বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়েছে অটোয়াতে। এছাড়া শত শত মানুষ জড়ো হয়েছে কানাডার বৃহৎ শহর টরোন্টো এবং কুইবেকে।
গত শুক্রবার গভীর রাতে জনগণের ভীড়ে একটি পিক আপ উঠে যাওয়ায় ৪ জন আহত হয় বলে জানায় পুলিশ।
টরোন্টোতে পাঁচ শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী এবং সমর্থকরা ট্রাক কনভয়ের বিরোধিতায় ডাউনটাউনে সমবেত হয়।
অটোয়ার কিছু সংখ্যক বাসিন্দা যারা মাস্ক পরার দায়ে ট্রাকের কনভয়ের কাছে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অবরোধ তুলে দিতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ জানান তারা।
সেই বাসিন্দাদের একজন কনভয় আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলন শেষ করতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা করেছেন।
অটোয়া পুলিশ জানিয়েছে, ট্রুডো সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে না নামানোর কারণে অচলাবস্থা এখনো থামানো যাচ্ছে না।
অটোয়ার পুলিশ প্রধান পিটার স্লোলি জানান, অটোয়া অবরুদ্ধ শহরে পরিণত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, এটি দেশব্যাপী বিদ্রোহ এবং উন্মাদনা। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে।








