কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা উত্তরের জনপদ দিনাজপুরে। মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুল পশুপাখিরও বেহাল দশা। শীতের তীব্রতার সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগও। শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যাও।
আজ বুধবার (৪ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে বেড়েছে হিমেল হাওয়া। বাতাসের আদ্রতা ৯৫ শতাংশ। গতিবেগ ০০৪ নটস। ঘন কুয়াশার সঙ্গে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে কেউ বের হচ্ছে না।
শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে খড়-কুটো জ্বালিয়ে। স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় খড়-কুটো জ্বালিয়ে মানুষ তাপ নিচ্ছে।
‘মানুষ বিক্রির হাট’ নামে খ্যাত শহরের ষষ্ঠীতলা মোড়ে কাজের সন্ধানে আসা নির্মাণ শ্রমিক মোতালেব হোসেন (৪৮) জানালেন, “আমি বিরল উপজেলার বিজোড়া থেকে কাজের সন্ধানে সকাল সাড়ে ৭টার সময় এখানে এসেছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাজ জুটেনি।”
মোতালেব আরও বলেন, “বাপুরে, এখনো নাস্তা করিনি। আইজ আর কাম-কাজ পাওয়া মুশকিল। যে জার (শীত) করছে। এই সপ্তাহে এর আগোত আরো দু’দিন কাম (কাজ) পাওনি।”
বালুয়াডাঙ্গা অন্ধ মহাফেজ মোড়ে কথা হয় শ্রমজীবী আইনুল ইসলামের (৪৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, “আইজ খুবই জার (শীত) করছে। বের হওনি (হয়নি) কামোত (কাজে)। কাইল গেইছুনু আধাবেলা কাম করি দুইশ টাকা পাইছো | এই জারত কাম নাই।”
বালুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অটোভ্যান চালক সিদ্দিক হোসেন (৫০) জানালেন,“খুবই কষ্টে আছি ভাই। এই শীতে ভাড়া-বাট্রা নাই। সকাল সকাল মানুষ বের না হওয়ায় কাজ ও নাই। কঠিন ঠান্ডা। গরম কাপড়-চোপড়ের এইবার মেলায় (বেশি) দাম। খুবই কষ্টত আছি ভাই।”
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান জানান, আজ বুধবার সকাল ৯ টায় জেলায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা| বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ। গতিবেগ ০০৪ নটস। দু’একদিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।
এদিকে শীতের তীব্রতার সাথে বেড়েছে শীতজনিত রোগও। শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। হাসপাতালগুলোতে রোগির সংখ্যাও বেড়েছে। দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ৪৭ জন।
ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসিমা সুলতানা জানান, সাধারণত ২৫-৩০ জন রোগী ভর্তি থাকে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিন ৪৫-৫০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। এসব শিশু জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রাম থেকে এসেছেন তৈয়বা বেগম (৫৩)। তিনি মেয়ের শিশু নিয়ে এসেছেন। তার নাতি সুইটির বয়স আড়াই মাস। নিজেরও ঠান্ডা লেগেছে জানিয়ে তৈয়বা বলেন, চারদিন ধরে নাতির জ্বর, সর্দি। স্থানীয়ভাবে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাইয়েছে, কিন্তু কমছে না। দুইদিন হয় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।”
হাসপাতালের নিচতলায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ১৯ জন। দুই দিন আগে ৪০ জন রোগী ভর্তি ছিল এখানে। সিনিয়র স্টাফ নার্স রিনা পারভীন বলেন, “এক থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরাই বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি হচ্ছে শিশুদের।”
এদিকে ঘনকুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে দিনে ও যানবাহন চলাচল করছে হেড লাইড জ্বালিয়ে। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে রেলওয়ে স্টেশনে। রাজধানী ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ তিন-চার ঘন্টা অবিলম্বে চলাচল করছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।







