একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেই। বুকে হাত দিয়ে উত্তরটা নিজেকে দিবেন। অ্যাডাম মিলনের ঘণ্টায় ১৪৬ কিমির বলটা যখন মুশফিকের স্টাম্প খেয়ে নেয়, তখন কজন ভেবেছিলেন বাংলাদেশ এই ম্যাচ ৫ উইকেটে জিতবে?
একজন? দুজন? তিনজন? শতকের ভেতর সংখ্যাটা যদি এমন হয়, তবে বুঝতে হবে ওই তিনজন সবচেয়ে আশাবাদী ঘরনার। সাউদির তিনটি ক্ল্যাসিক ডেলিভারি আর মিলনের ওই খুনে গুডলেন্থের বল; বাংলাদেশের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর আর দক্ষিণ দিককে কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। ৩৩ রানে যখন চার উইকেট নেই, তখন কাঁপতে থাকা দলের হাল ধরেন সাকিব। পরে যোগ দেন রিয়াদ। চারদিক যখন থরথর কাঁপছে, তখন দুজনে ইনিংসটাকে শুধু ধরলেনই না, রীতিমতো শাসন করে নিভতে থাকা সেমিফাইনালের আলো জ্বালিয়ে রাখলেন। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড গড়েছেন দুজন। এর আগে সেরা জুটি ছিল ১৭৮ রানের। সেটা এসেছিল তামিম-মুশফিকের ব্যাট থেকে।
২২৪ রানের একটি জুটি। নিছক তিনটি সংখ্যা। কিন্তু মাহাত্ম্য সীমাহীন। দুজনে ক্রিজে আসেন দাবানলের মতো পরিস্থিতিতে। বল সুইং করছিল। ভেতরে, বাইরে কাট করছিল। তারা দাঁড়িয়ে যান। ক্রিজে পড়ে থাকেন। সিঙ্গেল নেন। আবার সময় মতো বড় শটও খেলেন!
এই জুটি কতটা পরিকল্পিত সেটা কিউই অধিনায়কের দ্বিতীয় ওভার দেখলে বোঝা যায়। চাপের সময় কিছু ওভারকে টার্গেট করে খেলতে হয়। উইলিয়ামসনকে বোলিংয়ে আসতে দেখে সেই কাজটা করেন রিয়াদ, সাকিব। কিউই দলপতির ওই দ্বিতীয় ওভার থেকে ১৩ রান তুলে নেন দুজনে। উইলিয়ামসন আর বল ধরার সাহস দেখাননি। এর পরের ওভারে বোল্ট আক্রমণে আসেন। রিয়াদ-সাকিব ঠিকই খোলসে ঢুকে যান। দেখে-শুনে ওভারটি পার করে দেন। ম্যাচের এই দুটি ওভারের এই চিত্র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই জুটির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যা দিয়ে যায়।
সাকিব, রিয়াদ কী করেছেন সেই প্রশ্ন আজ ম্লান। দুজনে কী করেননি বরং সেই প্রশ্ন তুলে দেয়া যায়। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ১১৫ বলে ১১৪ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণ কিউইদের মানসিক শক্তিকে জুস বানিয়ে পিপাসা মেটাতে থাকেন। সঙ্গে রিয়াদ (১০২*) ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি ইনিংস খেলে সেই জুসের পেয়ালায় ভাগ বসান।
বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে কি না, সেই হিসাব সময়ের হাতে তোলা থাকল। তাকিয়ে থাকতে হবে অস্ট্রেলিয়ার হার পর্যন্ত। যদি সেটা না হয়, তাতে কী আসে যায়! এমন কন্ডিশনে, এমন পরিস্থিতিতে, এমন ম্যাচ জেতার পর একটি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল হাতছাড়া হলে হয়তো কষ্ট থাকবে। কিন্তু সেই কষ্টে প্রলেপ দিবে মহাকাব্যিক এই জয়। যে জয় স্মরণ করিয়ে দেয় এই কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেই স্মৃতি। সেদিন একজন আশরাফুল ছিলেন। আজ দুজন। নাকি ১১ জন, নাকি আরও বেশি?







