তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জার্মান পর্যটক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে ৬ জন জার্মানি, ২জন পেরুভিয়ান এবং একজন নরওয়ের পর্যটক রয়েছে।
হামলার জন্য ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভয়াবহ হামলায় হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
এ ঘটনায় তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভোতোলু জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারীর একজন সিরিয় নাগরিক এবং আইএসের সদস্য।
এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তুরস্ককে হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। তবে এ ঘটনার জন্য এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি।
হামলার ঘটনার পর জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তুরস্কে জার্মান পর্যটকদের সাবধানতা অবলম্বন করে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নরওয়ের একজন পর্যটক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
মঙ্গলবার ১০টার দিকে ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক সুলতান আহমেত মসজিদের কাছে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ওই বিস্ফোরনে ১০ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। নিহত অপর জন আত্মঘাতী ছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কয়েক মাস ধরে তুরস্কে বিভিন্ন দলের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও তুরস্কের সামরিক বাহিনী ও কুর্দি বিদ্রোহী পিকেকের মধ্যেও বিরোধ চলছে।
গত বছর তুরস্কে বেশ কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত অক্টোবরে এক বোমা হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। আবার জুলাইয়ে সিরিয়া সীমান্তের কাছে এক বোমা হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।






