ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য ইরান তাদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রস্তুত করেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত খবর দিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। দামেস্কে ইরানের দূতাবাস সংলগ্ন কনস্যুলেট ভবনে বিমান হামলা ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমার হুমকির পরে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এক প্রতিবেদনে সিএনএনসহ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলে হামলার জন্য ইরান উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাটাক ড্রোনও প্রস্তুত করেছে। ইরান গত এক সপ্তাহ ধরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রস্তুত করেছে।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিবিএস জানায়, দামেস্কে নিজের কনস্যুলেট ভবনে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।
তেহরান অন্তত ১০০টি ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে নিক্ষেপ করবে বলেও জানায় সিবিএস। ওই মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে এত বড় হামলা প্রতিহত করা ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
ফ্রান্স, ভারত, রাশিয়া, পোল্যান্ড ও ব্রিটেনসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল সফর করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে। দামেস্কের ইরানি কনস্যুলেট ভবনে হামলার জের ধরে ইরান ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে বলে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা চলছে তখন এ সতর্কতা জারি করা হলো।
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার এক এক্সক্লুসিভ খবরে জানিয়েছিল, ইরান আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাবে। দৈনিকটি দাবি করে, ইরানের উচ্চ পর্যায়ে ইসরায়েলে হামলা চালানো নিয়ে আলোচনা চলছে কিন্তু এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের দূতাবাস সংলগ্ন কনস্যুলেট ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির দু’জন পদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন নিহত হন। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার প্রতিশোধ নেয়া হুমকি দেয়।
সর্বশেষ গত বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা তেহরানের জুমার নামাজের খুতবায় বলেছেন, দামেস্কের ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলকে শাস্তি পেতে হবে এবং তাকে শাস্তি দেয়া হবে।








