শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় জিয়া উদ্দিন সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে মাংস আলাদা করেন আসমা। পরে মরদেহের কিছু অংশ পদ্মা নদীতে এবং কিছু অংশ সড়কের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন। আরও কিছু অংশ একটি ড্রামে ভরে অন্য একটি বাসার ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, শুক্রবার রাতে আসমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডোবা থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও লোহার রডও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
নিহত জিয়া উদ্দিন সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে আসমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে মুঠোফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে জিয়া ও আসমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় দুজনেই পৃথক সংসারে ছিলেন এবং উভয়েরই দুটি করে সন্তান ছিল। পরে আগের সংসার ছেড়ে তাঁরা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। গত বছরের মে মাসে জিয়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর থেকে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
নিহতের চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, জিয়া দেশে ফেরার পর পাশের গ্রামে ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। কোরবানির ঈদের পর আবার মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তবে তার আগেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।








