বিশ্ব যখন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, সেই অভিযাত্রায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে এক বাংলাদেশি তরুণের নাম। চীনের হুয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (HUST)-এর একদল তরুণ গবেষকের সঙ্গে কাজ করে হাইড্রোজেন জ্বালানি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছেন মো. রিসাত আব্দুল্লাহ।
বর্তমানে জ্বালানি রূপান্তর বিশ্বব্যাপী একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে ‘গ্রিন হাইড্রোজেন স্মার্ট স্টোরেজ’ নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল মাটির নিচে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত লবণখনি বা সল্ট ক্যাভার্নে নিরাপদে হাইড্রোজেন সংরক্ষণের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। চীন, বাংলাদেশ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তরুণ গবেষকদের নিয়ে গঠিত এ দলে রিসাত আব্দুল্লাহ গবেষণা ও কারিগরি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেন জ্বালানি সংরক্ষণে নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই সমস্যা সমাধানে গবেষক দলটি বড় পরিসরে ও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তথ্য বিশ্লেষণ, প্রকৌশল প্রয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে তারা এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই প্রযুক্তি সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষণাটি শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
রিসাত আব্দুল্লাহ ভবিষ্যতে তার অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের জ্বালানি খাত উন্নয়নে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
গবেষণার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। সম্প্রতি চীনের উহানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন দলটি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ভুক্ত দেশগুলোতে সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।







