ফিলিস্তিনের ইসরা জাবিস পেশায় ছিলেন একজন নার্সিং হোমের সেবিকা। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলেও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়াও তিনি পূর্ব জেরুজালেমের অগাস্টা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে শিশুদের জন্য পোশাকও বানাতেন তিনি।
আজ থেকে দুইবছর আগে ২০১৫ সালে ৩৩ বছর বয়সী জাবিসের গাড়িটি টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বিস্ফোরিত হয়। তবে এ ঘটনায় তিনি ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেন। তার দাবি তাকে হত্যা করার জন্যই ইসরাইলিরা চেকপয়েন্টের কাছে তার গাড়িটি নষ্ট করে দেয়। এবং এ ঘটনার পর থেকে জাবিস ইসরাইলের একমাত্র নারী ফিলিস্তিনই কারাগার হাশরুনে বন্দী আছেন। তার ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়।
গাড়ী বিস্ফোরণে তার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার হাতের আঙ্গুলের মধ্যে আটটিই প্রায় গলে গেছে। প্রচণ্ড ব্যথায় সে তার হাত নড়াচড়া করতে পারছে না। তার ডান কান প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে এবং নাকের এক পাশ গলে গর্ত হয়ে পরেছে, পুরো মুখমণ্ডল বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে।
https://twitter.com/razan_palestine/status/951778172357480448
আলজাজিরায় এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, জাবিস গত সপ্তাহে ইসরাইলের প্রিজন সিস্টেম ( আইপিএস) কাছে একটা লিখিত সেবা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তার ওপর নির্যাতনের হার দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে।
অমানবিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে জাবিস আরও বলেন, আইপিএস’তে এর বন্দীদের পরিবারপরিজনের সাথে কারারক্ষীরা দুর্ব্যবহার করে থাকে। এবং স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতেও দেওয়া হয় না অনেক সময়।
জেলখানায় অপ্রতুল ব্যবস্থা থাকায় তারা ঠিকভাবে থাকতেও পারে না। অনেক সময় অনেক বন্দীদের একাবারে নিঃসঙ্গ করে রাখা হয় নির্যাতনের জন্য। এছাড়া তাদেরকে শিক্ষা, টেলিফোন এবং স্যাটালাইট টিভি চ্যানেল দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ অনেক সময় কারাগারে কাপড়-চোপড় নিতে দেয় না এবং বন্দীদেরকে আর্থিক জরিমানাও করে হর-হামেশা। সেখানে চিকিৎসাকে মারাত্মক অবহেলা করা হয়। মস্তিষ্কে টিউমার, মেরুদণ্ডে ব্যথা এবং কিডনি সমস্যাসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও প্রিজন হাসপাতালেও তাদের পাঠানো হয় না। কোনরকম সুচিকিৎসা না দিয়ে আইপিএস অমানবিক আচরণ করে থাকে।
ইসরা জাবিস দুঃখ প্রকাশ করে আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি যখন আমার নিজের চেহারা আয়নায় দেখি তখন ভয় পেয়ে যাই, কল্পনা করুন অন্যরা যখন আমার দিকে তাকায় তখন কি অনুভব করে আমাকে নিয়ে’।







