তেহরানের পর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ইরানের পবিত্র শহর কওমে অনুষ্ঠিত হয়েছে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির নামাজে জানাযা।
কাসেম সোলাইমানির হত্যাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধের হুমকি-পাল্টা হুমকির মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে সোমবার সোলাইমানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জনতার ঢল নামে।
পরে রাতে সোলাইমানির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পবিত্র শহর কওমে। সেখানেও তার জানাযায় অংশ নেন লাখো মানুষ। জেনারেল সোলাইমানির ইচ্ছা অনুযায়ী তার জন্মস্থান কেরমান প্রদেশে আজ মরদেহ দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসি জানায়, সোলাইমানির জানাযা থেকে ট্রাম্পের মাথার মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে আট কোটি ডলার। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, দেশটির শীর্ষ জেনারেলকে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের মাথার মূল্য ঘোষণাসহ হোয়াইট হাউজে হামলার হুমকিও দেয়া হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট ন্যাটো চলমান অস্থিরতা বিষয়য়ে ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠক করেছে। প্রতিশোধমূলক হামলা বা উস্কানি থেকে বিরত থাকতে ইরানকে সতর্ক করেছে তারা। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করতে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ইরাকের মাটিতে হামলা চালিয়ে দেশটির বেশ কয়েকজন মিলিশিয়া নেতা ও ইরানের এক কমান্ডারকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ জানিয়েছে বাগদাদ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানো আলাদা চিঠিতে এ অভিযোগ জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার আমন্ত্রণে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ১১ জানুয়ারি মস্কো সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তার আগে সব পক্ষকে সংযত আচরণ করতে একযোগে আহ্বান জানিয়েছেন মেরকেল, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
যুদ্ধের ভয়ংকর উন্মাদনা থেকে দুই দেশকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
অন্যদিকে ইরাকে মার্কিন হামলায় ইরানের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার তিনদিন পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ওই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের মিত্র ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহ হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তেল আবিব।








