ইসরায়েলের দখলে ২শ’টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে; আর সেগুলো তাক করা আছে ইরানের দিকে! সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু গোপন ইমেইলে পাওয়া গেছে এমনই কিছু তথ্য।
গত বছর এক সহকর্মীকে পাঠানো ইমেইলে ইসরায়েল সম্পর্কে এ তথ্যগুলো প্রকাশ করেন পাওয়েল। তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ইমেইলটিসহ আরও কিছু ইমেইল একটি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ব্লগে প্রকাশ করে দেয় ডিসিলিকস নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ।
নিজের ব্যবসায়িক পার্টনার ও ডেমোক্রেটিক দাতাদের একজন জেফরি লিডসকে লেখা ওই ইমেইলে কলিন পাওয়েল মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর দেয়া বক্তৃতা নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তৃতায় নেতানিয়াহু কংগ্রেসকে সতর্ক করেছিলেন যেন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি না করে। তবে সেই নিষেধ সত্ত্বেও চুক্তিটি সই করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েল বরাবরই তাদের নিউক্লিয়ার ক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরি গোপনীয়তা পালন করে এসেছে। সরকারি নীতি অবলম্বনে দেশটি কখনোই তার পারমাণবিক অস্ত্রের আকার বা ধরণ নিয়ে একটি কথাও বলেনি। যদিও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ, তা একটি ‘ওপেন সিক্রেট’।
ইমেইলের একটি অংশে পাওয়েল লিখেন, ‘ইরানিয়ানরা চাইলেও একটাও (পারমাণবিক হাতিয়ার) ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ তেহরানে থাকা ছেলেরা জানে ইসরায়েলের এমন ২শ’টা আছে, যার সবগুলো তেহরানের দিকেই তাক করা। আর আমাদের আছে কয়েক হাজার। আহমেদিনেজাদ তো বলেছেনই, ‘শুধু একটা দিয়ে আমরা কী করব, ঘষে চকচকে করব?’ আমি সবার সামনেই ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কথা বলেছি। আমরা তাদের সবচেয়ে আদরের জিনিসটাই উড়িয়ে দেবো – তাদের ক্ষমতার অস্তিত্ব। সেখানে কোথায়, কীভাবে তারা একটা অস্ত্রও পরীক্ষা করবে?’
অনেকদিন ধরেই ইসরায়েল প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করে আসছেন, দেশটির ৪শ’রও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা। তবে পাওয়েলের ইমেইল থেকে পাওয়া তথ্যকেই বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।








